Friday, 6 November, 2026
6 November
Homeআন্তর্জাতিক নিউজSpace Science: পৃথিবী থেকে চিরবিদায়ের ৪০০ বছরের মহাকাশযাত্রা! ‘CHRYSALIS’ নামের এক ভাসমান...

Space Science: পৃথিবী থেকে চিরবিদায়ের ৪০০ বছরের মহাকাশযাত্রা! ‘CHRYSALIS’ নামের এক ভাসমান শহর

নকশা অনুযায়ী এই মহাকাশযানটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার বা ৩৬ মাইল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিজ্ঞান কল্পকাহিনী (Sci-Fi) বা সিনেমার পর্দায় মহাকাশ বা ভিনগ্রহের গল্প আমরা কমবেশি সকলেই দেখেছি। কিন্তু সেই কল্পনাই যদি একদিন বাস্তবতার রূপ নেয়, যেখানে নিজের জন্মভূমিকে চিরকালের মতো পেছনে ফেলে এক অন্তহীন যাত্রায় বেরিয়ে পড়তে হয়—তাহলে কেমন লাগবে?

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমনই এক যুগান্তকারী ও অভাবনীয় মহাকাশযানের নকশা তৈরি করেছেন, যার নাম ‘CHRYSALIS’। প্রজেক্ট হাইপেরিয়ন ডিজাইন কম্পিটিশনে (Project Hyperion Design Competition) বিজয়ী এই কাল্পনিক অথচ অত্যন্ত বিজ্ঞানভিত্তিক নকশাটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর ও রোমাঞ্চকর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ লাল ‘বিমানে’ আটকে গেল গোটা ট্রাম! ‘লাল ব্রিগেড’ সম্মেলন শেষে নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী কলকাতা

১. ৩৬ মাইল দীর্ঘ এক ভাসমান মহাকাশ শহর

‘CHRYSALIS’ কোনো সাধারণ রকেট বা মহাকাশযান নয়; এটি মহাশূন্যের বুকে ভেসে থাকা আস্ত এক স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর।

  • বিশাল আকৃতি: নকশা অনুযায়ী এই মহাকাশযানটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার বা ৩৬ মাইল।

  • ধারণক্ষমতা: এতে একসঙ্গে প্রায় ২,৪০০ জন মানুষের বসবাসের সুব্যবস্থা থাকবে।

  • সব কিছু হাতের কাছে: এই শহরের ভেতরেই থাকবে মানুষের থাকার ঘর, স্কুল, হাসপাতাল, লাইব্রেরি, পার্ক, কৃষিজমি, বাগান এবং খাদ্য উৎপাদনের নিখুঁত ব্যবস্থা। এমনকি নিজস্ব শিল্পকারখানায় মহাকাশযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, একবার পৃথিবী ছাড়লে বাইরের সাহায্যের কোনো প্রয়োজন পড়বে না।

  • কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ: মহাকাশের শূন্যতায় শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পুরো কাঠামোটিকে নির্দিষ্ট গতিতে ঘোরানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা অনেকটা পৃথিবীর মতো পরিবেশেই হাঁটাচলা করতে পারবেন।

২. গন্তব্য ৪ আলোকবর্ষ দূরে, সময় লাগবে ৪০০ বছর!

এই অভিযানের গন্তব্য আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রমণ্ডল আলফা সেন্টউরি (Alpha Centauri), যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.২৪ আলোকবর্ষ (প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত।

এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে প্রায় ৪০০ বছর!

এর সবচেয়ে মর্মে এবং অবাক করা দিক হলো—

  • যারা প্রথম এই মহাকাশযানে পা রাখবেন, তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বার্ধক্য বা অন্য কারণে মারা যাবেন।

  • মহাকাশযানের ভেতরেই জন্ম নেবে পরবর্তী প্রজন্ম। একের পর এক প্রজন্ম সেখানে জন্মাবে, বড় হবে, ভালোবাসবে এবং মারা যাবে।

  • তাঁদের কাছে ‘পৃথিবী’ কোনো চাক্ষুষ গ্রহ নয়, বরং কেবলই বইয়ের পাতায় পড়া গল্পের এক সুন্দর নীল রঙের গ্রহ—যেখানে একসময় নদী, পাহাড়, সমুদ্র আর খোলা আকাশ ছিল।

৩. বিজ্ঞান ও বাস্তবতার প্রশ্ন

  • প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ: ‘CHRYSALIS’ এখনও পর্যন্ত বাস্তবে তৈরি কোনো মহাকাশযান নয়। এত বিশাল পরিসরে স্থায়ী ফিউশন প্রযুক্তি বা দীর্ঘমেয়াদী জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা এখনও মানুষের আয়ত্তের বাইরে।

  • গন্তব্যের অনিশ্চয়তা: এই ৪০০ বছরের দীর্ঘ যাত্রার শেষে বিজ্ঞানীদের সম্ভাব্য লক্ষ্য প্রোক্সিমা সেন্টউরি বি (Proxima Centauri b) নামের একটি বহির্গ্রহ, যেখানে মানববাসের উপযোগী পরিবেশ পাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি নেই।

  • মানসিক প্রস্তুতি: যাত্রা শুরুর আগে প্রাথমিক যাত্রীদের ৭০ থেকে ৮০ বছর ধরে অ্যান্টার্কটিকার মতো চরম বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রেখে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  যোগাযোগের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা! জাপান থেকে ভারতে পৌঁছাল প্রথম বুলেট ট্রেন

এক অন্তিম প্রশ্ন

যাঁরা জন্ম থেকে মাটি, হাওয়া, রোদ, সমুদ্র আর প্রিয় মানুষের মুখ দেখে বড় হয়েছেন, তাঁরা কি এমন এক যাত্রায় অংশ নিতে রাজি হবেন—যেখানে ফেরার কোনো রাস্তা নেই, আর যে স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছানোর আনন্দ কেবল আপনার বহু প্রজন্মের উত্তরাধিকারীরা ভোগ করবে?

হয়তো একদিন সত্যি মানুষের ঠিকানা কেবল এই নীল গ্রহটিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোটি কোটি তারার ভিড়ে অন্য কোনো নক্ষত্রের আলোয় দাঁড়িয়ে আমাদের কোনো উত্তরসূরি আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাববে—আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্ম হয়েছিল এক নীল গ্রহে!

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন