বাঙালি সংস্কৃতিতে শিবরাত্রি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি লোকজ বিশ্বাস ও আবেগের এক মিলনস্থল। বিশেষ করে বাঙালি মেয়েদের কাছে শিবের মাথায় জল ঢালার মাহাত্ম্য একটু আলাদা।
বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে শিবরাত্রির সকালে একটি পরিচিত দৃশ্য দেখা যায়—নতুন শাড়ি পরে, উপোস থেকে ঘটি হাতে মন্দিরের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তরুণীরা। মা-ঠাকুমাদের শেখানো সেই আদি কাল থেকে চলে আসা বিশ্বাস: “ভক্তিভরে শিবের মাথায় জল ঢাললে শিবের মতোই গুণবান স্বামী পাওয়া যায়”।
আরও পড়ুনঃ Mahashivratri 2026: ভোজন না করলে কখনোই ভজন হয় না; শিবরাত্রির উপ-বাস অর্থাৎ ‘কাছে-থাকা’
কেন শিবের মতোই স্বামী চাই?
হিন্দু পুরাণে শিব হলেন ‘আশুতোষ’—যিনি অল্পেই তুষ্ট। বাঙালি লোকগাথায় শিবের রূপটি আরও বেশি ঘরোয়া। এখানে তিনি ‘ভোলা মহেশ্বর’। বাঙালি মেয়েদের কাছে শিব আদর্শ পুরুষ হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:-
অগাধ ভালোবাসা: শিব ও পার্বতীর প্রেম অমর। পার্বতীর দীর্ঘ তপস্যায় মুগ্ধ হয়ে শিব তাকে আপন করে নিয়েছিলেন। এই একনিষ্ঠ প্রেমই প্রতিটি মেয়ের কাম্য।
সহজ-সরল জীবন: শিব আড়ম্বরহীন, নির্লোভ। ঘরোয়া বাঙালি লোকসঙ্গীতে তাকে অনেক সময় ‘গরিব জামাই’ হিসেবে ঠাট্টা করা হলেও, তার এই সহজ সরল রূপটিই তাকে পরম নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
রক্ষণশীলতা ও ত্যাগ: শিব যেমন রুদ্র, তেমনই তিনি শান্ত। পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ব ও পার্বতীর প্রতি তার সম্মান তাকে আদর্শ স্বামীর আসনে বসিয়েছে।
কেন মহাশিবরাত্রি পালন করা হয়? কবে থেকে এই প্রথা শুরু?
কেন পালন করা হয়?
মহাশিবরাত্রি শিব ও শক্তির মিলনের রাত্রি হিসেবে ধরা হয়।
এই দিনটি অত্যন্ত আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী কারণ—
শিব-পার্বতীর বিবাহ দিবস
অনেক পুরাণ মতে এই দিনেই দেবাদিদেব মহাদেব ও মা পার্বতীর বিবাহ হয়।
নীলকণ্ঠ রূপ ধারণ
সমুদ্র মন্থনের সময় যে হলাহল বিষ বের হয়েছিল, শিব এই দিনেই তা পান করেন বলে কাহিনি আছে।
শিবের জাগরণ রাত্রি
এই রাতকে তপস্যা, ধ্যান ও আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
আরও পড়ুনঃ হুগলির শেওড়াফুলিতে বিজেপি কর্মীর নাক ফাটানোর অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে
কবে থেকে এই প্রচলন?
মহাশিবরাত্রির উল্লেখ পাওয়া যায়—
শিব পুরাণ
লিঙ্গ পুরাণ
স্কন্দ পুরাণ
হাজার হাজার বছর ধরে এই তিথি পালিত হয়ে আসছে।
প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতায় শিবোপাসনা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে কার্যকরী Remedy ….
যদি সত্যিই ফল চান, তাহলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন
মধ্যরাতে শিবলিঙ্গে অভিষেক করুন
উপকরণ:
জল
দুধ
বেলপত্র
সামান্য মধু
অভিষেকের সময় জপ করুন —
“ওঁ নমঃ শিবায়” (১০৮ বার)
একটি শক্তিশালী বিশেষ উপায়
মহাশিবরাত্রির রাতে—
একটি বেলপত্রে আপনার সমস্যা লিখুন (মনে মনে)।
শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন।
এরপর ১১ বার “মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র” জপ করুন।
এই উপায়টি বিশেষভাবে কাজ করে—
বাধা দূর করতে
গ্রহদোষ প্রশমনে
মানসিক কষ্ট কমাতে
উপ–বাস + ধ্যান (সবচেয়ে শক্তিশালী): শিব যেমন রুদ্র, তেমনই তিনি শান্ত। পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ব ও পার্বতীর প্রতি তার সম্মান তাকে আদর্শ স্বামীর আসনে বসিয়েছে।









