রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকারের বহুল চর্চিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আবেদন করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়লেন পূর্ব বর্ধমানের গলসি-২ ব্লকের কুরকুবা গ্রামের ৩২ বছর বয়সী তরুণী অনন্যা আশ। প্রকল্পের অনুদান বাবদ প্রথমে ৩ হাজার টাকা ব্যাংকে এলেও আচমকা তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) অ্যাকাউন্টে আবার ১,৫০০ টাকা জমা পড়লে, ব্যাংকে গিয়ে তরুণী জানতে পারেন—তাঁর অ্যাকাউন্টে এই অর্থ ঢুকেছে ‘বার্ধক্য ভাতা’ (Old Age Allowance) হিসেবে!
মাত্র ৩২ বছর বয়সে সরকারি খাতায় ‘বৃদ্ধা’ বানিয়ে বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই সোমবার ব্যাংকের স্টেটমেন্ট ও পরিচয়পত্র নিয়ে গলসি-২ ব্লকের বিডিও (BDO) অফিসে লিখিত অভিযোগ জানান ক্ষুব্ধ অনন্যা।
আরও পড়ুনঃ আজ দেবী দুর্গার কৃষ্ণানবম্যাদি কল্পারম্ভ! শাস্ত্রমতে আজকেই শারদীয়া পূজার শুভ সূচনা
“অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চাইতে গিয়ে বৃদ্ধা বানালাে প্রশাসন”: অনন্যার ক্ষোভ
আবেদনকারী তরুণী অনন্যা আশ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমি সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য জমা দিয়েছিলাম। শুরুতে ৩,০০০ টাকা ঢোকার পর সেপ্টেম্বর থেকে তা বন্ধ হয়ে গেল। এখন ব্যাংকে গিয়ে পাসবই আপডেট করিয়ে দেখি, আমাকে নাকি বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হচ্ছে! একজন ৩২ বছরের মহিলার অ্যাকাউন্টে কীভাবে বার্ধক্য ভাতা ঢোকে? প্রশাসনের এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় আমি হতবাক।”
আরও পড়ুনঃ পাহাড় থেকে নেমে আসছে ধস ও কাদার স্রোত, মানাংয়ের চামে গ্রামে ভয়াবহ বন্যা ও বিপর্যয়! অবরুদ্ধ উত্তর নেপাল
“তৃণমূলের পা-চাটা অফিসারদের ভুলেই বদনাম সরকারের”: তোপ বিজেপি বিধায়ক রাজুর
এই ঘটনায় স্থানীয় ব্লক প্রশাসন এবং পূর্বতন পঞ্চায়েত কর্মীদের দিকেই সরাসরি তোপ দেগেছেন গলসির বিজেপি বিধায়ক রাজু পাত্র। বিডিও অফিসের চরম গাফিলতির কথা স্বীকার করে রাজু পাত্র অভিযোগ করেন:
“এতে নতুন রাজ্য সরকারের কোনো ভুল নেই। তৃণমূলের পা-চাটা এবং কাটমানিখোর স্থানীয় স্তরের একশ্রেণীর আধিকারিক ও কর্মীর অদক্ষতা ও অনিয়মের জন্যই বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হচ্ছে। বিডিও ও ব্লক প্রশাসনের উচিত ছিল তথ্যগুলি সঠিকভাবে যাচাই করা। আবেদনপত্র পরীক্ষা না করেই একজন তরুণীকে বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পে কীভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো? অবিলম্বে এই ভুল সংশোধন করে দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে গলসি ব্লকজুড়ে প্রবল চাঞ্চল্য ও হাস্যাস্পদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিডিও অফিসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়া হলেও, জমা পড়া অভিযোগপত্রটি খতিয়ে দেখে তথ্য সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।


