২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতার বেহালা এলাকায় এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে মাদক মেশানো খাবার খাইয়ে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি বর্তমানে Sarsuna থানার পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৭ এবং ১৮ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে ওই নাবালিকাকে বেহালা এলাকা থেকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়ির ভিতরে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এবং নির্যাতিতার স্কুলের এক সহপাঠী উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ জারি হল হিট স্ট্রোক নিয়ে সতর্কতা; প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাড়ি থেকে না বেরোনোর পরামর্শ
পরিবারের দাবি, গাড়িতে ওঠার পরে নাবালিকাকে একটি চকোলেট খেতে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে চেতনানাশক জাতীয় কিছু মেশানো ছিল বলে সন্দেহ। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এরপর তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। একই সঙ্গে একটি আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে নাবালিকাকে ভয় দেখানো হয় এবং কাউকে বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর নাবালিকা তীব্র মানসিক আঘাতের মধ্যে ছিল। সেই কারণেই পরিবার প্রথমদিকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গে পুলিশের ‘দাবাংগিরি’! ২০২১ এ পুলিশকে গুলি করা ডন কেমাথা ন্যাড়া করে অন্তর্বাস পরিয়ে প্যারেড
পরে নির্যাতিতার মা Kolkata Police-এর অধীন সরসুনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩, ৩৫১(২) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করেছে। পাশাপাশি, পকসো আইনের ৪, ৬ এবং ১০ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন এবং যে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, সেটিকেও শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় গাড়িতে উপস্থিত ওই সহপাঠীর ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, যে স্থানে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ, সেটি চিহ্নিত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।



