বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
মজুতদারি রুখতে প্রশাসনিক নজরদারি ও ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির ছাড়পত্রের মতো কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের ফলে অবশেষে চিনির বাজারে পতন দেখা দিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রকের সচিব সঞ্জীব চোপড়া নিশ্চিত করেছেন যে, মিল থেকে বেরোনো বা ‘এক্স-মিল’ চিনির দাম এক ধাক্কায় ১৮ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকায় নেমে এসেছে।
চিনির দরের বর্তমান চিত্র ও কেন্দ্রের পদক্ষেপ
-
রেকর্ড দর থেকে পতন: গত সপ্তাহে দেশের পাইকারি বাজারে রেকর্ড হারে বেড়ে এক্স-মিল চিনির দাম কেজিপ্রতি ৬৭ টাকায় পৌঁছেছিল, যা বর্তমানে কমে ৫৫ টাকা হয়েছে।
-
মজুত সীমা ও আমদানির নির্দেশ: কেন্দ্র কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি সামলাতে বড় ক্রেতাদের জন্য চিনির সর্বোচ্চ মজুতসীমা বেঁধে দিয়েছে এবং রাজ্যগুলিকে ‘ফ্লাইং স্কোয়াড’ তৈরি করে কালোবাজারি রুখতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দেশীয় চিনি উৎপাদন ও চাহিদা
খাদ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিনির পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে এবং অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই:
-
বাৎসরিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা: প্রায় ২৮০ থেকে ২৮৫ লক্ষ টন।
-
উৎপাদনের পূর্বাভাস: ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) চিনি উৎপাদন পূর্বানুমান ৩৪৩ লক্ষ টন থেকে কমে ৩০৬ লক্ষ টন হলেও, তা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
আরও পড়ুনঃ ভুয়ো রেশন কার্ড রুখতে কড়া পদক্ষেপ; বাতিল প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট মানদণ্ড জারি করল রাজ্য সরকার
খুচরো বাজারে প্রভাব ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ (NFCSF)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রকাশ নায়কনাভারে জানান, এক্স-মিল দামের সাথে খুচরো বাজারের দামের ব্যবধান সাধারণত ৭-৮ টাকা হয়ে থাকে।
-
পাইকারি ও খুচরো দর: ২৪ আগস্টের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে চিনির গড় পাইকারি দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫৮.২৯ টাকা এবং গড় খুচরো দাম ছিল ৬৩.০৫ টাকা।
মিলস্তরে দাম কমায় আগামী দিনে পাইকারি ও খুচরো বাজারেও চিনির দর আরও কমবে বলে আশাপ্রকাশ করেছে খাদ্যমন্ত্রক।


