বিশেষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি:
ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত বিরোধ মেটাতে সোমবার বেইজিং সফরে পৌঁছাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সাথে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ (Special Representatives) পর্যায়ের ২৫তম সীমান্ত বৈঠকে বসবেন তিনি। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ঠিক আগে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দলীয় ভোজ ঘিরে উত্তপ্ত আনন্দপুর; বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রক্তাক্ত কর্মী
বৈঠকের মূল পেক্ষাপট ও আলোচ্য বিষয়
-
২৫তম সীমান্ত আলোচনা: ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই কাঠামো চালু হয়েছিল। দীর্ঘদিন স্তব্ধ থাকার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বেইজিংয়ে দুই প্রতিনিধি মুখোমুখি হচ্ছেন।
-
সীমান্তে শান্তি স্থাপন: ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছিল। গত ২০২৪ সালের অক্টোবরে হওয়া ‘ডিসএনগেজমেন্ট’ চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা, সেনা সরণ এবং লাইন্ অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)-এ শান্তি বজায় রাখা এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।
-
ব্রিকস সম্মেলন ও শীর্ষ বৈঠকের ইঙ্গিত: দিল্লিতে আগামী ব্রিকস সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ডোভালের এই সফরের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের চূড়ান্ত রূপরেখা।
আরও পড়ুনঃ বিষ্ণুপুরে ভয়াবহ কাণ্ড; চিকিৎসককে অপহরণের চেষ্টা, তাড়া করায় গুলি ছুড়ে বাইকে চম্পট দুষ্কৃতীদের
ভারতের শক্ত অবস্থান ও জয়শঙ্করের বার্তা
সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চীনের আপত্তির কড়া জবাব দিয়েছিল নয়াদিল্লি এবং অরুণাচলকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছিল।
বৈঠকের আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বা দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে অজিত ডোভালের বেইজিং সফর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বরফ গলাতে এবং কূটনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।


