এমপ্লয়িজ প্রোভাইডেন্ট ফান্ড অরগানাইজেশন (EPFO)-এর আওতায় কর্মচারী পেনশন স্কিম বা EPS-95-এর ন্যূনতম পেনশন ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে মাসে ৭,৫০০ টাকা এবং সাথে মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু বহু আন্দোলন, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ এবং আশ্বাস সত্ত্বেও এটি না বাড়ায় দেশজুড়ে কোটি কোটি অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁদের সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভোডাফোন আইডিয়া গ্রাহকদের বড় ঝাকুনি; ডিসেম্বরেই বন্ধ হবে ভোডাফোনের পরিষেবা?
সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন যুক্তি অনুযায়ী, এই পেনশন না বাড়ার প্রধান কারণগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
কেন বাড়ছে না ন্যূনতম ৭,৫০০ টাকা পেনশন?
-
বিপুল আর্থিক বোঝা: কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ন্যূনতম পেনশন ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা করতে গেলে সরকারের ওপর প্রতি বছর প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক দায়ভার এসে পড়বে, যা সামলানো কঠিন বলে সরকারের দাবি।
-
তহবিলের ঘাটতি (Actuarial Deficit): সরকার ও EPFO-র মতে, কর্মীদের কর্মজীবনে জমা করা মাসিক জমার পরিমাণ (যাতে নিয়োগকর্তার ৮.৩৩% অংশ পেনশনে যায়) এবং তার থেকে প্রাপ্ত সুদের হারের সঙ্গে মাসের শেষে ৭,৫০০ টাকা পেনশনের অঙ্কের ভারসাম্য মেলে না। তহবিল যাতে পুরোপুরি নিঃশেষ না হয়ে যায়, সেই যুক্তি দেওয়া হয়।
-
সরকারি ভর্তুকির সীমাবদ্ধতা: বর্তমানে ১,০০০ টাকা পেনশন নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকারকে এমনিতেই বাজেটের মাধ্যমে বিশেষ ভর্তুকি দিতে হয়। বাজেট ঘাটতি বজায় রাখতে গিয়ে সরকার অতিরিক্ত কোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকছে।
আরও পড়ুনঃ এবার নতুন কোপ, ক্যাম্পা কোলার ১০ টাকার বোতলেও কোপ; ‘শ্রিঙ্কফ্লেশন’-এর দৌড়ে এবার রিলায়েন্স
পেনশনারদের ক্ষোভ ও দাবি
-
জীবনযাত্রার অনিরাপত্তা: দীর্ঘদিন ধরে পেনশনার আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি (যেমন EPS-95 National Agitation Committee) দাবি জানিয়ে আসছে যে, বর্তমান আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির যুগে মাসে ১,০০০ টাকায় একজন বয়স্ক মানুষের চিকিৎসা বা দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চালানো অসম্ভব।
-
সংসদীয় কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা: শ্রম সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ন্যূনতম পেনশন অন্তত ৩,০০০ টাকা করার পক্ষে একাধিকবার সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় পেনশনাররা ক্ষুব্ধ।
-
আন্দোলনের হুমকি: সারা দেশজুড়ে প্রবীণ নাগরিক ও পেনশনার সংগঠনগুলি প্রায়শই ধর্না, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ ও অনশন কর্মসূচি পালন করছে। তাঁদের বক্তব্য, এটা অনুদান নয়, তাঁদের নিজেদের সারা জীবনের জমানো টাকার ন্যায্য অধিকার।


