বিশেষ প্রতিনিধি:
দামি ফোনের বায়নাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিমিষেই শেষ হয়ে গেল একটি পুরো পরিবার। কিন্তু যে নির্মম সত্য এখনও বুঝে উঠতে পারেনি পরিবারের অবলা সদস্যটি, তা হলো তার প্রিয় মানুষেরা আর কোনোদিন ফিরবে না। ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের খাবদা পাহাড়ে বাবা, মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এখন ফাঁকা বাড়িতে একা বসে চোখের জল ফেলছে পরিবারের চতুর্থ সদস্য—একটি সাদা-কালো রঙের পোষা কুকুর।
আরও পড়ুনঃ দলীয় ভোজ ঘিরে উত্তপ্ত আনন্দপুর; বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রক্তাক্ত কর্মী
যে মর্মান্তিক ঘটনায় শেষ হলো চন্দ্রগুড়ে পরিবার
-
ছেলের পিছু নেওয়া ও দুর্ঘটনা: ১৮ বছরের তরুণ কুণাল চন্দ্রগুড়ে দামি ফোনের বায়না পূরণ না হওয়ায় আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে খাবদা পাহাড়ে উঠে যান। কুণালকে বাঁচাত ছুটে যান বাবা মুরলীধর চন্দ্রগুড়ে। ছেলেকে টেনে তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাবা ও ছেলে দুজনই প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে যান।
-
মায়ের আত্মহত্যা: চোখের সামনে স্বামী ও সন্তানের এই নির্মম পরিণতি সহ্য করতে না পেরে দিশেহারা মা সঙ্গীতা চন্দ্রগুড়েও ওই একই পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুনঃ দিল্লি প্রেস ক্লাবে মোদীর কাটআউট পুজো বিতর্কের আসলি সত্য; প্রেস ক্লাবের পদক্ষেপ ও কড়া বার্তা
মালিকদের পথ চেয়ে বসে অনশনে পোষ্য
পরিবারের সকলের করুণ পরিণতির খবর প্রতিবেশীদের স্তব্ধ করে দিলেও সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কুণালের অতি প্রিয় ওই পোষ্যটির ওপর:
-
খাবার-জল ত্যাগ: মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই খাবার এবং জল স্পর্শ করছে না কুকুরটি। প্রতিবেশীরা খাবার দেওয়ার চেষ্টা করলেও সে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি।
-
গেটের মুখে নীরব অপেক্ষা: কুণালের অত্যন্ত নেওটা এই কুকুরটি প্রতিদিন সকালে তার সঙ্গেই হাঁটতে বের হতো। এখন সে বাড়ির বন্ধ গেটের দিকে ঠাঁয় তাকিয়ে ডাকছে এবং প্রভুর ফেরার অপেক্ষা করছে।
একটুকরো ভুলেই এক নিমেষে শেষ হয়ে যাওয়া পরিবারের ফাঁকা বাড়িতে এখন শুধু ওই পোষ্য কুকুরটির আর্তনাদ ভেসে আসছে। অভিভাবকহীন এই অবলা প্রাণীটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত প্রতিবেশীরা এখন পুলিশের হস্তক্ষেপ ও কোনো পশুপ্রেমী সংস্থার সাহায্য চাইছেন।


