কলকাতায় রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র দফতরের সামনে দফায় দফায় ছড়াল উত্তেজনা। সোমবার সিইও দফতরে আসেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’র সদস্যেরা। শুভেন্দু এবং বিজেপির প্রতিনিধিদল সিইও দফতরের কাছে পৌঁছোতেই তাঁদের দেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি। দু’পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও শুরু হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ অসমে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিয়াদের বিক্ষোভে ধর্মীয় হিংসার অশনি সংকেত
গত কয়েক দিন ধরেই সিইও দফতরের সামনে অবস্থান চালাচ্ছে বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি। তৃণমূলপন্থী এই সংগঠনের বিক্ষোভের সময়ে সেখানে বিএলও-দের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনাই। সোমবার শুভেন্দুরা সিইও দফতরে পৌঁছোনোর আগে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল এলাকা। সেই ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। শুভেন্দুদের দেখা মাত্রই ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তুলতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।
সেই বিক্ষোভ এবং স্লোগানের মাঝেই শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপির প্রতিনিধিদল সিইও দফতরের ভিতরে প্রবেশ করে। তাঁরা ইতিমধ্যে সিইও দফতরের ভিতরে বৈঠক শুরু করেছেন। অন্য দিকে সিইও দফতরের বাইরে বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে। বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির বিক্ষোভের পাশাপাশি সিইও দফতরের বাইরে ভিড় জমেছে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদেরও।
আরও পড়ুনঃ হারের হতাশা প্রকাশ সংসদে নয়! অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধীদের কড়া বার্তা মোদীর
সোমবার দুপুরে এই উত্তেজনা সামাল দিতে সিইও দফতরের বাইরে আগে থেকেই পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বসানো হয়েছিল ব্যারিকেডও। তবে শুভেন্দুরা সিইও দফতরে প্রবেশ করার পরই সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যদের দাবি, তাঁদেরও ভিতরে প্রবেশ করতে দিতে হবে। তাঁরাও সিইও দফতরে স্মারকলিপি জমা দিতে চান। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর বিরুদ্ধেও স্লোগান তুলতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।
সিইও দফতের বাইরে যখন এই বিক্ষোভ চলছে, তখন দফতরের ভিতরে সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবিদাওয়ার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দুরা। সিইও-র হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন তাঁরা। ওই বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, “সুপার টাইমার আইএএসদের বাদ দিতে হবে। ইআরও (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-দের এসডিও র্যাঙ্ক না থাকলে বাদ দিতে হবে। বাংলাদেশি মুসলিমদের নাম বাদ দিতে হবে। অনেকের নাম রয়েছে।” আই প্যাকের বিরুদ্ধেও কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান তিনি। কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “পাঁচ হাজার বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। দু’মাস হয়ে গেল কমিশন। কেন কিছু জানাল না?”









