বিশেষ উত্তর ২৪ পরগনা ও অপরাধ প্রতিনিধি:
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সিপিআই(এম)-এর ওপর আক্রমণের ঘটনা থামার নাম নিচ্ছে না। বিরাটিতে গান্ধী জয়ন্তীর পথসভায় হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এবার দত্তপুকুরে সিপিআই(এম) এরিয়া কমিটির কার্যালয়ে তাণ্ডব চালাল একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, পার্টি অফিসের ভেতরের সমস্ত আসবাবপত্র ও নথিপত্রে ভাঙচুর চালানোর পর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পেছনে স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সরাসরি হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাম নেতৃত্ব।
পরপর দুটি হিংসাত্মক ঘটনার জেরে জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে।
আরও পড়ুনঃ মহাত্মা গান্ধীকে ‘পাকিস্তানের জনক’ কটাক্ষ ‘ঠোঁটকাটা নেতা’ তথাগত রায়ের
ঘটনার বিবরণ ও পার্টি অফিসে তাণ্ডব
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে দত্তপুকুর বাজারের কাছে অবস্থিত সিপিআই(এম) এরিয়া কমিটি অফিসে এই তাণ্ডব চালানো হয়:
-
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ: গভীর রাতে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী পার্টি অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ফ্ল্যাগ, ব্যানার, টেবিল-চেয়ার, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও বইপত্র তছনছ করা হয়। এরপর পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
-
স্থানীয়দের তৎপরতা: আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি ছুটে আসেন এবং জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে অফিসের ভেতরের বড় অংশের আসবাব ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বাম নেতৃত্বের ক্ষোভ ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ
ঘটনার খবর পেয়েই শনিবার সকালে জেলা সিপিআই(এম) শীর্ষ নেতৃত্ব ও বাম কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
-
সিপিএমের তোপ: বাম নেতৃত্বের দাবি, বিরাটিতে সভা ভাঙচুরের পর দত্তপুকুরে পরিকল্পিতভাবে এই তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি। এলাকায় বামপন্থীদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের সমর্থন দেখে ভয় পেয়েই হিংসার পথ বেছে নিচ্ছে বিজেপি।
-
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: দত্তপুকুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ভয় In ভরসা Out’-এর সরকার! বিরাটিতে বামেদের সভায় ‘বিজেপির’ তাণ্ডব
এক নজরে উদ্ভূত পরিস্থিতি
| ক্ষেত্র / বিষয় | প্রশাসনিক তথ্য ও বর্তমান স্থিতি |
| ঘটনাস্থল | দত্তপুকুর সিপিআই(এম) এরিয়া কমিটির কার্যালয়, উত্তর ২৪ পরগনা। |
| মূল অভিযোগ | বিজেপির বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও নথিপত্র নষ্টের অভিযোগ। |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন; তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা শুরু। |
| রাজনৈতিক অবস্থান | অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বিজেপির দাবি, এটি সিপিএমের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। |
বিরাটি ও দত্তপুকুরের পর পর দুটি ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত না করলে জেলাজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাম নেতৃত্ব।


