কলকাতা:
পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের থেকে সম্ভাব্য প্রাণহানির হুমকির চরম খবর সামনে আসতেই নজিরবিহীনভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো হলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার সন্ধ্যা থেকেই বুলেটপ্রুফ বিশেষ গাড়িতে যাতায়াত শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমান থেকে জঙ্গি সন্দেহে হামিম মণ্ডল এবং হাওড়া ও অন্যান্য এলাকা থেকে তার সহযোগী অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিং গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তে এই ভয়াবহ নজিরবিহীন ছকের কথা সামনে আসে।
আরও পড়ুনঃ হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে গ্রেফতার আদিত্য; পুর প্রতিমন্ত্রীর ছেলেকে হানিট্র্যাপে ফেলার পরিকল্পনা
হামিমের কাছে মিলল মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির নথি
এসটিএফ সূত্রের দাবি, গত শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহর থেকে জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত হামিমের কাছে থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর:
-
প্রতিদিনের বিস্তারিত কর্মসূচি,
-
যাতায়াতের নির্দিষ্ট রুট এবং
-
গতিবিধি সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল নথি ও তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ও জইশ-ই-মহম্মদের সাথে সরাসরি যোগ থাকা হামিম এই সমস্ত তথ্য সীমান্ত পারের হ্যান্ডলারদের পাঠাচ্ছিল বলে গোয়েন্দাদের দাবি।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যের ‘হাই প্রোফাইল’ শীর্ষ ব্যক্তিত্বকে হত্যার ছক! পেশাদার গ্যাংস্টারকে ‘সুপারি’ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল জইশ জঙ্গি হামিমের
কাঁথি থেকে কলকাতায় বুলেটপ্রুফ গাড়িতে যাত্রা
হুমকির তীব্রতা অনুধাবন করে রবিবার সন্ধ্যা থেকেই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। ওই দিন পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে নিজের পৈতৃক বাড়ি থেকে কলকাতায় ফেরার সময় কড়া নিরাপত্তায় সাজানো বুলেটপ্রুফ গাড়িতেই যাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন:
“চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর কনভয়ে বুলেটপ্রুফ গাড়ি রাখা থাকত। কিন্তু সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ ও জনসংযোগের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ গাড়িতেই বেশি যাতায়াত করতেন। তবে বর্তমান জইশ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা একধাক্কায় বহুগুণ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যার কয়েক মাস আগেই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ নৃশংসভাবে খুন হন।
-
গত ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের পথ আটকে মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর হিটলিস্টে থাকার খবর সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। এসটিএফ বর্তমানে পুরো জঙ্গি মডিউল ও এর পেছনের চক্রান্ত রুখতে ব্যাপক তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।


