কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
জল-জমি-জঙ্গলের সমস্যাকে হাতিয়ার করে মানুষের কাছে যাওয়ার বার্তা সিপিএমের। রবিবার শিলিগুড়ির টিকিয়া পাড়ায় ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ সমাবেশ থেকে উত্তরবঙ্গের জল, জমি, জঙ্গল, জীবন বাঁচানোর খসড়া ঘোষণাপত্র ‘উত্তরপত্র’ প্রকাশ করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
এই উত্তরপত্রে কিউআর কোড স্ক্যান করে উত্তরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতামত জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। পরবর্তীতে সেই সমস্যাগুলি নিয়েও দল আন্দোলন করবে বলে জানানো হয়েছে।
২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর গত ১৫ বছরে ক্রমশ রক্তক্ষরণ হয়েছে সিপিএমের। দলের বিধায়ক সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে শূন্য। রাজ্য থেকে সাংসদও নেই। সভা-সমিতিগুলোতে ভিড় হলেও ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন নেই। বামেরা আন্দোলন গডে তুললেও তার সুফল মিলছে না। দীর্ঘদিন থেকেই এর উত্তর খুঁজছে একসময় টানা ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করা দলটি।
আরও পড়ুনঃ পরিকল্পনা বিশবাঁও জলে! অনিশ্চিত ‘সবুজের হাতছানি’
২৬- এর ভোটের আগে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে ‘তৃণমূলের নব জোয়ার’ এবং বিজেপির ‘সংকল্প যাত্রা’-র ধাঁচে রাজ্যের ১১টি জেলায় জনসংযোগ যাত্রা শুরু করেছে সিপিএম। জেলাভিত্তিক বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে বক্তব্য দেন মহম্মদ সেলিম-মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়রা। সেলিম বলেন, ‘তৃণমূল ও বিজেপি ধর্ম,মন্দির-মসজিদ, হিন্দু-মুসলিমের নামে রাজনীতি করছে। বাম আমলে কোন সভা হলে সেখানে স্কুল,কলেজ, শিল্পের কিভাবে আরও উন্নতি হবে সেসব নিয়ে কথা বলা হত। কিন্তু এখন আমাদের এগুলোকে বাঁচানোর বার্তা দিতে হচ্ছে।’ চা বাগানে কেন পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়াছে? কেনই বা নারী সুরক্ষা নেই সেই প্রশ্ন তোলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
যদিও এদিনের সমাবেশে দেখা যায়নি প্রাক্তন মন্ত্রী ও শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকে। তার অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে সবার। যদিও অশোকবাবু জানিয়েছেন, ‘আমি মেদিনীপুরে বস্তি উন্নয়ন সমিতির রাজ্য সন্মেলনে এসেছি। এটা মহম্মদ সেলিমও জানেন।’









