আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে করাতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আর সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। সিআরপিএফের পশ্চিমবঙ্গ সেক্টর সোমবার জানিয়েছে তারা এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘অপারেশন অ্যাডভান্স অল আউট – ফেজ ১’- কর্মসূচি শুরু করেছে৷ সিআরপিএফ জওয়ানরা সব জেলায় ব্যাপক প্রাক-নির্বাচনী কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন।
আরও পড়ুনঃ উত্তপ্ত একবালপুর, রাকেশ সিং-এর সভাকে ঘিরে তুলকালাম
সিআরপিএফ-এর বক্তব্য
সিআরপিএফের অফিসিয়াল ‘এক্স! হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়েছে, “সিএপিএফ কর্মীরা সব জেলায় নির্বাচন-পূর্ব দায়িত্ব সতর্কতার সঙ্গে পালন করেছেন। তাদের উচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলাবোধ নির্বাচনী পরিবেশকে মুক্ত, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
চলমান কর্মকাণ্ড
২০ এপ্রিল ২০২৬-এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সিআরপিএফ-এর বিভিন্ন কোম্পানি নিম্নলিখিত কাজ করেছে:
• জলপাইগুড়ি: সক্রিয় কমিউনিটি আউটরিচ প্রোগ্রাম (সিবিএম)
• পুরুলিয়া: স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম (এসএসটি) ডিউটি, যানবাহন চেকিং এবং বুথ পরিদর্শন
• উত্তর দিনাজপুর: মার্কসম্যান ভেহিকল মুভমেন্ট এবং ফ্ল্যাগ মার্চ
• কোচবিহার: রুট মার্চ ও সিবিএম অনুশীলন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ইসির নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা
সিআরপিএফ জওয়ানরা রাস্তায় ফ্ল্যাগ মার্চ, বুথ পরিদর্শন, যানবাহন তল্লাশি এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছেন। লাউড হেলার ও ব্যানারের মাধ্যমে ভোটারদের নির্ভয়ে ও প্রভাবমুক্তভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল ২০২৬। নির্বাচন কমিশন রাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। সিআরপিএফ-সহ অন্যান্য সিএপিএফ বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে৷
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে সিআরপিএফ-এর এই ‘অল আউট’ অপারেশনের লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের অশান্তি, প্রভাব বিস্তার বা অনিয়ম রোধ করা।সিআরপিএফ-এর এই কর্মকাণ্ড দেখিয়ে দিচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পূর্ণ প্রস্তুত। ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি জোরদার করাই এই অপারেশনের মূল উদ্দেশ্য।



