বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
দিল্লির আদালতে শর্তসাপেক্ষ জামিন পাওয়ার পরেই সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি হুংকার ছাড়লেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা তথা শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামিনের শর্ত হিসেবে আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখা এবং কোনো অশান্তি না করার কথা বলা হলেও, অভিজিতের সাফ দাবি—তিনি বা তাঁদের দলের নেতারা প্রতিবাদ না করার মতো কোনো শর্ত বা বন্ডে সই করেননি। ফলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি তাঁরা যে ফের রাজপথে নামবেন, এই ঘোষণায় নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
জামিনের শর্ত বনাম ককরোচ নেতাদের অনড় অবস্থান
শনিবার দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতির পর রবিবার সকালে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লির আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তিনজনকে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেয়। সিজেপির আইন শাখার প্রধান রত্না সিংয়ের দাবি অনুযায়ী, ওই বন্ডে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে আগামী এক বছর অভিযুক্তরা সম্পূর্ণ শান্তি বজায় রাখবেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করবেন না।
কিন্তু জেল থেকে মুক্ত হয়েই সেই শর্তের প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়ে অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন:
“প্রতিবাদ করা যাবে না বা আন্দোলন থামিয়ে দেব—এমন কোনো বন্ডে আমরা সই করিনি। সিজেপি পিছপা হবে না, ভয়ও পাবে না। আমরা আবারও রাজপথে নামব। ১০ অক্টোবরের দিনটি দেশের মানুষ একনায়কতন্ত্রের পতনের সূচনা হিসেবে মনে রাখবে।”
আরও পড়ুনঃ ‘মেট্রো ও ট্রেন স্বাভাবিক করান, ব্যারিকেড সরান, বন্ধ করা যাবে না ইন্টারনেট’! অবিলম্বে ১৬৩ ধারার নোটিস সরানোর কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ
ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই অভিজিতের পরিবারে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই তিনি জানতে পারেন যে তাঁর ৮৫ বছর বয়সি ঠাকুমা সাবিত্রীবাই দীপকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে জানানো হলেও এই কঠিন ব্যক্তিগত আঘাতের মধ্যেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন তিনি। সাময়িকভাবে নিজের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের পাশে কিছুদিন সময় কাটালেও আন্দোলন থেকে একচুলও সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে ‘ককরোচ’ শিবির।
সব মিলিয়ে, আদালতের নির্দেশ এবং পুলিশের কড়া নজরদারির পরেও সিজেপি নেতৃত্ব যেভাবে ফের প্রতিবাদের সুর চড়িয়েছেন, তাতে আগামী দিনে জাতীয় রাজধানীতে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত দানা বাঁধার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


