বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘আসিয়ান’ (ASEAN) ভুক্ত দেশগুলিতে কি পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৈরি অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি করা হবে? সেই বিশাল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে হাত মেলানোর ইচ্ছা প্রকাশ করল ‘সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন’। এর সাথেই রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে বড় খবর—পুরুলিয়ায় তৈরি হতে চলেছে বিশাল ‘ডিফেন্স পার্ক’। সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের পরবর্তী অন্যতম প্রধান ‘ডিফেন্স হাব’ করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে নতুন ডিফেন্স পার্ক
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত একটি বিশেষ কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তা জানান, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে একটি প্রতিরক্ষা উদ্যান বা ‘ডিফেন্স পার্ক’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
-
জমি বণ্টন: এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক জমি চিহ্নিতকরণের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
-
জুপিটার ডিফেন্স-কে জমি হস্তান্তর: প্রথম ধাপে ‘জুপিটার ডিফেন্স’ নামক একটি সংস্থার হাতে ২৫৬ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সংস্থাটি প্রাথমিক ভাবে ডিটনেটর সহ অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম প্রস্তুত করবে।
আসিয়ান বাজারে সুযোগ ও ভৌগোলিক সুবিধা
ভারতের থেকে ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্স এবং ইন্দোনেশিয়া ‘ব্রহ্মস মিসাইল’ ক্রয় করেছে। এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের ইন্ডিয়া বিজনেস কমিটির চেয়ারপার্সন প্রসূন মুখোপাধ্যায় জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে ভারতের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বিশাল চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মোট ১১টি আসিয়ান দেশ (ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে এবং ভিয়েতনাম)-এর বাজারে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
আরও পড়ুনঃ আঁধার ভেদ করে আলোর দিকদর্শী; প্রয়াণ দিবসে আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়কে শ্রদ্ধার্ঘ্য
এমএসএমই (MSME) নির্বাচন ও ডিফেন্স করিডোর
বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রাজ্যজুড়ে একটি বিশেষ ‘ডিফেন্স করিডোর’ বা প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| প্রাথমিক সমীক্ষা | প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা ১৩৯টি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (MSME) সংস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। |
| চূড়ান্ত চয়ন | কড়া ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর ১১৮টি যোগ্য সংস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। |
| সংস্থার অবস্থান | এই সংস্থাগুলি কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি এবং হাওড়া জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে। |
বেঙ্গল চেম্বারের ডিরেক্টর জেনারেল শুভদীপ ঘোষ জানান, এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণে মূল উপযোগ হিসেবে কাজ করবে, যা রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।


