বুধবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়িয়েছিলেন তিনি। প্রবীণ আমলা হিসেবে সওয়াল করেছিলেন আত্মসম্মান নিয়ে। কিন্তু সেই ‘বিদ্রোহের’ মাসুল দিতে হল হাতেনাতে। কোচবিহার দক্ষিণের অবজার্ভার অনুরাগ যাদবকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, কর্তব্যে গাফিলতি এবং তথ্যের অভাবের কারণ দেখিয়েই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রের দাবি, অনুরাগ যাদবকে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কেবল ‘অবাধ্যতা’ নয়, রয়েছে প্রশাসনিক ব্যর্থতাও। অভিযোগ, বুধবারের বৈঠকে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বুথ সংখ্যা সংক্রান্ত অত্যন্ত সাধারণ কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে।
কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছর সিভিল সার্ভিসে থাকা এই প্রবীণ আমলা নাকি নিজের এলাকার বুথ সংখ্যাই সঠিকভাবে বলতে পারেননি। এর পরেই ক্ষুব্ধ হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। কমিশনারের বক্তব্য ছিল, যে অবজার্ভার নিজের এলাকার বুথ সংখ্যা জানেন না, তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট পরিচালনা করবেন কীভাবে?
বুধবার পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর অবজার্ভারদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেখানে কোচবিহারের হিংসা ও স্পর্শকাতর বুথ নিয়ে আলোচনার সময় মেজাজ হারান জ্ঞানেশ কুমার। অনুরাগ যাদবকে লক্ষ্য করে তিনি বলেছিলেন, ‘গো ব্যাক টু হোম’ (বাড়ি চলে যান)।
পাল্টা দিতে ছাড়েননি অনুরাগও। সটান জবাব দিয়েছিলেন, “আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। ২৫ বছর সার্ভিস করছি। ইউ কান্ট ট্রিট আস লাইক দিস।” ভার্চুয়াল বৈঠকের সেই তপ্ত বাক্যবিনিময়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরকারিভাবে অনুরাগ যাদবকে অবজার্ভারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কোচবিহারের মতো স্পর্শকাতর জেলায় যেখানে উদয়ন গুহ বনাম নিশীথ প্রামাণিকের দ্বৈরথ সারা বছর চলে, সেখানে অবজার্ভারদের সবটুকু তথ্য নখদর্পণে থাকা বাধ্যতামূলক। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “সর্ষের মধ্যে ভূত তাড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর। কাজ না জানলে বা তথ্যে ঘাটতি থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
অনুরাগ যাদবের এই অপসারণ কি বাকি অবজার্ভারদের জন্য কড়া বার্তা? না কি আমলা মহলে ক্ষোভের আগুন আরও উসকে দিল এই ঘটনা? ২০২৬-এর ভোটের আগে এই নজিরবিহীন সংঘাত এখন নবান্ন থেকে দিল্লির অলিন্দে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়।



