বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, ওয়াশিংটন:
নোবেল শান্তি পুরস্কার হাতছাড়া হওয়ার পরেই কি ফের যুদ্ধের ময়দানে আগ্রাসী রূপ নিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়িয়ে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ (MOAB) ব্যবহারের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে পেন্টাগন। সম্প্রতি একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের (CNN) আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তেহরানের জ্বালানি পরিকাঠামো এবং পরমাণু কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করতে পেন্টাগনের এই বিকল্প ভাবনাচিন্তা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় তোলপাড় শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে ভারত’, বেফাঁস মন্তব্য করে চরম বিতর্কে বিজেপির সভাপতি
ঠিক কতটা মারাত্মক এই ‘মাদার অব অল বম্বস’?
আম মার্কিন সেনা অস্ত্রাগারের সবচেয়ে শক্তিশালী এই অ-পারমাণবিক বোমার আনুষ্ঠানিক নাম GBU-43/B ম্যাসিভ অর্ডানেন্স এয়ার ব্লাস্ট (Massive Ordnance Air Blast)।
-
ধ্বংসক্ষমতা: বিশাল আয়তনের এই বোমার ওজন প্রায় ২১,৬০০ পাউন্ড (৯,৮০০ কেজি)। এটি মাটিতে পড়ার আগেই বাতাসে বিকট শব্দ ও তীব্র অভিঘাত তরঙ্গ (Shockwave) তৈরি করে মাইলের পর মাইল এলাকা ছারখার করে দিতে পারে।
-
ইরানের ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে কতটা কার্যকর?: শক্তি অপরিসীম হলেও ইরানের মাটির গভীরে তৈরি মজবুত পরমাণু কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করতে এই বোমা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সেনা বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বিস্তৃত এলাকা ধূলিসাৎ করার জন্য তৈরি এই অস্ত্রটি গভীর ভূগর্ভ ভেদ করার (Bunker Buster) মতো বৈশিষ্ট্যে বিশেষভাবে নির্মিত নয়।
নভেম্বরের নির্বাচনের আগে কোণঠাসা ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) ঠিক মুখে যুদ্ধ পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
-
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘর্ষ ও তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।
-
জনমত সমীক্ষাগুলিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঘাটতির ইঙ্গিত মিলতেই সামরিক শক্তির চরম প্রদর্শন চালিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘোষণার পথ খোঁজা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এহেন প্রলয়ংকরী বোমা ব্যবহারে বিপুল সাধারণ মানুষের প্রাণহানির (Civilian Casualties) মারাত্মক ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি ও প্রয়াত মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ! চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে
অতীতে আফগানিস্তানে ব্যবহার
ইরানের বিরুদ্ধে এই প্রলয়ংকরী অস্ত্র এখনও প্রয়োগ করা না হলেও, ট্রাম্পের প্রথম শাসনকালে ২০১৭ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তানে আইএস (ISIS) জঙ্গিদের সুরঙ্গ ও গুহা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে প্রথমবার ‘MOAB’ ব্যবহার করেছিল মার্কিন বিমানবাহিনী। ওই হামলায় ৯০ জনেরও বেশি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল।
এখন দেখার, কূটনীতির সমস্ত দরজা বন্ধ হওয়ার পর ট্রাম্প সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন, নাকি বড় বিপদের আগে তা আটকে যায়।


