কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে অন্য যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পরও মনের ভেতরে থাকা আক্রোশ মেটেনি। প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে নৃশংসভাবে খুনের অপরাধে অভিযুক্ত শ্রীকান্ত রায়কে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনাল জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। নতুন সরকারের আমল শুরুর পর জেলায় সম্ভবত এটিই প্রথম ফাঁসির রায়। খুনের মাত্র ৯ মাসের মাথায় এই ঐতিহাসিক রায় দিলেন বিচারক বিপ্লব রায়।
অভিযুক্ত শ্রীকান্ত রায়কে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলা ও সাজা সংক্রান্ত মূল তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| ঘটনার সময় | চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি। |
| ঘটনাস্থল | ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি জেলা। |
| আদালতের রায় | সাজা ঘোষণা করেন জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের বিচারক বিপ্লব রায়। মাত্র ৯ মাসে বিচার সম্পন্ন। |
| দণ্ডবিধি ও সাজা | আসামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০,০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের জেল)। |
| নাবালকদের ভবিষ্যৎ | আসামীর দুই নাবালক সন্তানের ২১ বছর বয়স পর্যন্ত দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন ও ‘ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল এইড ফোরাম’-কে। |
আরও পড়ুনঃ রামের চাপে বাম; মার্ক্স-লেলিনের পাশেই শঙ্করাচার্য ও বিবেকানন্দ! পুজোর বুকস্টলে কৌশল বদল সিপিএমের
নৃশংসতার নেপথ্যে আক্রোশ
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত শ্রীকান্ত রায়ের স্ত্রী এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পারার পর শ্রীকান্ত নিজে উদ্যোগ নিয়ে সেই যুবকের সঙ্গেই স্ত্রীর বিয়ে দেন। কিন্তু মনের গভীরে জ্বলতে থাকা ক্ষোভ নেভেনি।
বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কয়েক দিন পরই প্রাক্তন স্ত্রীর নতুন বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে অতি নৃশংসভাবে হত্যা করে শ্রীকান্ত। সরকারি আইনজীবী হায়দার আলী জানান, অপরাধের অভূতপূর্ব নৃশংসতা বিবেচনা করেই আদালত বিরলতম ঘটনা হিসেবে এই মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।


