গরু পাচার মামলায় দীর্ঘ আড়াই বছর জেলে থাকার পর জামিনে মুক্ত অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেন আবারও গ্রেফতার হলেন। বীরভূমের বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন ফ্ল্যাটে টানা ২২ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশি ও জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজই তাঁকে বীরভূমের সিউড়ি আদালতে তোলা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পাঁচ বছর পূর্ণ হল আফগানিস্তানের তালিবান শাসন; উদ্বেগে রাষ্ট্রসঙ্ঘ
গ্রেফতারির প্রেক্ষাপট ও তল্লাশি
-
অভিযোগের সূত্রপাত: পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে পাথর ও বালির গাড়িতে ভ ভুয়ো বা নকল ডিসিআর (DCR) ব্যবহার করে রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁপি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
-
তদন্তে মোড়: এই কালো টাকার উৎস অনুসন্ধানে বীরভূম জেলা পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তের সূত্রে পুলিশ পৌঁছায় টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিঠু শেখের আবাসনে, যেখানে সায়গল হোসেনেরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
-
২২ ঘণ্টার জেরার পর গ্রেফতার: টুলু বা তাঁর আত্মীয়দের পাশাপাশি পুলিশ সায়গলের ফ্ল্যাটেও তল্লাশি শুরু করে। একটানা ২২ ঘণ্টা দীর্ঘ জেরা ও তল্লাশি অভিযান শেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুনঃ গুলিবৃষ্টি নদিয়ায়; নিহত সপুত্র কংগ্রেস নেতা
সায়গলের ফ্ল্যাট থেকে বাজেয়াপ্ত সম্পদ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশি চলাকালীন সায়গল হোসেনের ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি সম্পত্তির হদিস মিলেছে:
-
নগদ টাকা: নগদ ১৩ লক্ষ টাকা।
-
স্বর্ণালঙ্কার: প্রায় ৭৫০ গ্রামের বেশি সোনা।
-
নথিপত্র: জমি ও সম্পত্তির ৩০০-রও বেশি দলিল।
পূর্ববর্তী বিতর্ক
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের এক সময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ডান হাত হিসেবে পরিচিত সায়গল হোসেনকে এর আগে গরু পাচার মামলায় বিপুল বেআইনি সম্পত্তি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে সিবিআই (CBI) ও ইডি (ED) গ্রেফতার করেছিল। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে জেল খাটার পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে বোলপুরের এই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। তবে নতুন এই রাজস্ব ফাঁকি ও বেআইনি সম্পত্তি সংক্রান্ত ঘটনায় আবারও পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি।


