মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় প্রাথমিক স্কুলে শিশুদের ইউনিফর্ম নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আগেও কম বেশি ছিল। তবে সেই অভিযোগের গভীরতা কতটা তা মাপা যায়নি। অভিযোগ থাকলেও তা তদন্ত করে দেখার চেষ্টা কখনও করেনি নবান্ন। তবে এবার, রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, তাঁর কাছে ওই দুর্নীতির ফাইল রয়েছে। গরিব, অনগ্রসর পরিবারের ছেলেমেয়েদের স্কুলের ইউনিফর্ম নিয়ে যাঁরা দুর্নীতি করেছেন তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
শুধু স্কুল ইউনিফর্ম নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় সবুজসাথীর সাইকেল থেকে স্কুলের জন্য ফুটবল কেনা নিয়ে পর্যন্ত যে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’র অভিযোগ ছিল, এবার তার তদন্তে কোমর বাঁধছে নতুন সরকার।
আরও পড়ুনঃ পর্ষদের ক্যালেন্ডার বাতিল, গরমের ছুটি বাড়াল রাজ্য সরকার
এ ব্যাপারে এদিন প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনও প্রতিক্রিয়া নেই’। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাফ জানিয়ে দেন, প্রাথমিক স্কুলের শিশুদের ইউনিফর্ম নিয়ে অতীতে বড় মাপের অনিয়ম হয়েছে। সেই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তার প্রমাণ এখন সরকারের হাতে। এই অনিয়ম রুখতে মুখ্যমন্ত্রী এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—
এখন থেকে প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ইউনিফর্ম তৈরির দায়িত্ব পাবে রাজ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘তন্তুজ’। এর ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং তাঁতশিল্পীরাও উপকৃত হবেন।
তৃণমূল সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘সবুজসাথী’র সাইকেল নিয়েও অতীতে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্রছাত্রীরা বারবার সাইকেলের খারাপ গুণমান নিয়ে অভিযোগ করলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রভাবশালী এক নেতার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা এই সাইকেল সরবরাহের বরাত পেয়েছিলেন। স্কুলের জন্য ফুটবল কেনাতেও বিপুল অর্থের নয়ছয় হয়েছে বলে মনে করছে নবান্ন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার অবৈধ বিল্ডিংয়ের জল ও বিদ্যুৎ কেটে দিতে হবে, বিরাট নির্দেশ শুভেন্দুর
সূত্রের খবর, নতুন প্রশাসনের মতে এই সব দুর্নীতি এতটাই নগ্ন যে এর তদন্তে ইডি বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। রাজ্য পুলিশের বিশেষ শাখা বা সরকার গঠিত তদন্ত কমিশনই এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির উৎস খুঁজে বের করতে পারবে।
এদিন সকালেই মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা, পুরসভা ও সমবায় দফতরের অভিযুক্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে সিবিআই-কে চার্জশিট পেশের অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী যে সব ফাইল আটকে রেখেছিলেন, তা আজ থেকে মুক্ত। যাঁরা মানুষের টাকা লুঠ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”
নবান্নের এই সক্রিয়তা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী দিনে শিক্ষা ও প্রশাসন স্তরের অনেক রাঘববোয়ালই এবার আইনের জালে ধরা পড়তে চলেছেন।


