২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই (জানুয়ারি থেকে মার্চ) মেঘালয়ে ৫৭৪ জনের শরীরে নতুন করে এইচআইভি (HIV) সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যার মধ্যে ১৬ জন গর্ভবতী মহিলাও রয়েছেন। এই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসতেই ‘মেঘালয় এইডস কন্ট্রোল সোসাইটি’ (MACS) রাজ্যজুড়ে দুই মাসের দীর্ঘ ও ব্যাপক সচেতনতা অভিযান শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ চণ্ডীপুরে ১৫ আগস্টের সকালে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা; নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে ফোরহুইলার, মৃত ২
১. সংক্রমণের কারণ ও শতকরা হিসাব
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এইচআইভি ছড়ানোর মূল কারণ ও অনুপাত নিচে দেওয়া হলো:
-
নৈমিত্তিক যৌনসম্পর্ক (Casual Sex): ৫২% (প্রধান কারণ)
-
নিয়মিত সঙ্গী বা জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে: ৩২%
-
সংক্রমিত সূঁচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার: ৯%
-
বাণিজ্যিক যৌনসম্পর্ক: ৪%
-
মা থেকে সন্তানে সংক্রমণ: ২.৫%
২. ‘আইইসি ৩.০’ (IEC 3.0) অভিযান ও পরিকল্পনা
১২ আগস্ট শিলঙের লেডি কিন কলেজে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’-এর দিন Statewide Intensified IEC Campaign 3.0-এর সূচনা করা হয়।
-
কভারেজ ও লক্ষ্যমাত্রা: অভিযানে ১২৬টি গ্রাম, ৩,০০০টি স্কুল, ৮৫টি কলেজ এবং প্রায় ১৫,০০০টি বাড়িতে সরাসরি পৌঁছনোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
-
সচেতনতার মাধ্যম: পথনাটিকা, স্বাস্থ্য শিবির, ফ্ল্যাশ মব এবং কিউআর (QR) কোডের সাহায্যে সঠিক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
-
মূল উদ্দেশ্য: অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক ও সংক্রমিত সূঁচ ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে জানানো, সময়মতো পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সুনিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক কলঙ্ক/বৈষম্য দূর করা।
আরও পড়ুনঃ এবারের স্বাধীনতা দিবসটা অন্যরকম; বদলের বাংলায় জাতীয় পতাকা তুললেন শুভেন্দু অধিকারী
৩. সরকার ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
-
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা: মেঘালয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশের বয়স ২০ বছরের নিচে। তাই তরুণ সমাজ ও রেড রিবন ক্লাবগুলিকে (Red Ribbon Clubs) এই লড়াইয়ে অগ্রভাগে রাখা হচ্ছে।
-
৫ বছরের বিশেষ পরিকল্পনা: রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়াইলাডমিকি শ্যিল্লা জানিয়েছেন যে, এইচআইভি মোকাবিলায় সরকার ৫ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। কেবল স্বাস্থ্য দফতর নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সমাজকেও এই যুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


