বিশেষ বাণিজ্য প্রতিনিধি, কলকাতা:
রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও শিল্পের বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকারের পর্যটন দফতর। কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে আয়োজিত বিশেষ ‘ইনভেস্টরস মিট’-এ পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন খাতে ৩৭টি প্রথম সারির কর্পোরেট সংস্থার তরফে মোট ১২,৫৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অন্তত ২১,৮১৪ জন যুবকের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি হর্ষবর্ধন নেওটিয়া-সহ পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের ৩৬ জন প্রতিনিধি।
আরও পড়ুনঃ ভয়ঙ্কর অভিযোগ; গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা SFI নেতার
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রধান রূপরেখা
| বিবরণ | পরিসংখ্যান ও লক্ষ্য |
| মোট প্রস্তাবিত বিনিয়োগ | ₹ ১২,৫৩৪ কোটি টাকা |
| অংশগ্রহণকারী সংস্থা | ৩৭টি কর্পোরেট গ্রুপ |
| প্রাক্কলিত কর্মসংস্থান | ২১,৮১৪টি নতুন কর্মসংস্থান (প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ) |
| মূল দর্শন | ‘ইচ্ছা থেকে বিনিয়োগ’ এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকনোলজি-নির্ভর পর্যটন |
প্রশাসনিক বার্তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সম্মেলনে সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গের ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এবং সহজে ব্যবসা করার সুযোগ (Ease of Doing Business)-এর ওপর জোর দেন:
-
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত: তিনি তুলে ধরেন যে, নতুন সরকার প্রশাসনিক জটিলতা ও বাধা দূর করে পর্যটন শিল্পে নতুন গতি এনেছে।
-
পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ: শিল্পপতিদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নাগরিকদের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের সাথে বাঁচার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই পরম সেবা।” পরবর্তীতে সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলভিত্তিক অর্থনীতির মতো ভারতের জিডিপি বৃদ্ধিতেও পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
-
প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী: রাজ্যের বৈচিত্র্যময় পর্যটনস্থলগুলির আন্তর্জাতিক প্রচারের ওপর আলোকপাত করেন।
বিগত কয়েক দশকের স্থবিরতা, দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের সমালোচনা করে পর্যটন দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতীয় উন্নয়ন নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সংস্কারমুখী নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ এখন এক নতুন শিল্পায়নের যুগে প্রবেশ করছে।
আরও পড়ুনঃ বাবুঘাট থেকে আহিরীটোলা; মহালয়ার ভোরে গঙ্গাপাড়ে বাজবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’
দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য
পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব মডেলের মাধ্যমে রাজ্যকে ভারতের অন্যতম প্রধান বৈদেসিক মুদ্রা অর্জনকারী অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই পর্যটন দফতরের মূল লক্ষ্য।


