বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
ক্ষমতা ও দলীয় প্রতীক দুটিই হারানোর পর আজ, শনিবার হাইকোর্টের শর্ত মেনে শ্রীরামপুরে বছরের প্রথম সভা করতে চলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বিকেল ৪টেয় সভা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় মারাত্মক আক্রমণের শিকার হলেন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর গাড়িতে পাথর ও ডিম ছুড়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং গাড়ির কাচ চুরমার করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার বিবরণ ও কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ
শনিবার দুপুরে শ্রীরামপুরের জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। উত্তরপাড়া পেরোনোর সময় আচমকাই কিছু দুষ্কৃতী লাঠি ও রড নিয়ে তাঁর পথ আটকায় এবং গাড়ির ওপর চড়াও হয়।
-
শরীরে আঘাত ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার দাবি: কুণাল ঘোষ জানান, কাচ ভেঙে ভেতরে ঢোকা পাথরের আঘাতে তাঁর ডান কাঁধে আঘাত লেগেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। মমতার সভায় যাচ্ছিলাম, লাঠি-রড নিয়ে দাঁড়িয়ে পুরো রাস্তা আটকে দিল। আমার সারা শরীর কাচে ভরা।”
-
রাস্তায় তল্লাশি: তিনি আরও দাবি করেন, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে থামিয়ে দেখা হচ্ছে কোন গাড়িতে কোন রাজনৈতিক নেতা যাচ্ছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
হামলার পর ভাঙা গাড়ি নিয়েই প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সোজা লালবাজার বা ভবানী ভবনের দিকে রওনা হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমি ভবানী ভবনে যাচ্ছি। গিয়ে দেখাব, একজন জনপ্রতিনিধি বা বিধায়কের কী অবস্থা করা হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ বেনজির বন্ধুত্ব! ইতিহাস পিছনে রেখে সিপিএমের সঙ্গে কথা মমতার
রাজনৈতিক তর্াজা ও প্রতিক্রিয়া
এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে:
| দল/ব্যক্তি | দাবি ও প্রতিক্রিয়া |
| মমতা তৃণমূল | এই আক্রমণের পেছনে সরাসরি বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে দল। |
| বিজেপি নেতৃত্ব | বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। |
| দীপাঞ্জন গুহ (উত্তরপাড়ার বিধায়ক) | কুণাল ঘোষের অভিযোগ খারিজ করে তিনি বলেন, “কুণাল ঘোষ কী অভিযোগ করলেন, তাতে কিছু যায় আসে না। উনি তো একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছিলেন। বিজেপি নয়, এটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।” |
শ্রীরামপুরের সভার ঠিক মুখেই এই হামলার ঘটনায় সমগ্র এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ভবানী ভবন ও সভাস্থলের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।


