আজ বৃহস্পতিবার বেলায় আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি । এরপরই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান সিপি মনোজ ভার্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতে রহস্যজনক সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বৃহস্পতিবার সকালে হানা দিল ইডি, দিল্লি থেকে বিশেষ দল! তড়িঘড়ি ছুটলেন মমতা
আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির পর সংস্থার সল্টলেকের দফতরে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ির মতোই আইপ্যাকের অফিস থেকেও ফাইলের গোছা নিয়ে বেরিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। তার পরে তা রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছনের আসনে। সেই গাড়িকে ঘিরে রেখেছে বিরাট পুলিশবাহিনী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। তার মধ্যেই দু’জায়গাতেই পৌঁছে গেলেন মমতা।
সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতরে মমতা পৌঁছোনোর আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীরা। রয়েছেন বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুও। মমতা পৌঁছোনোর পরেই লিফ্ট ধরে সোজা চলে যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভের এই বহুতলের ১১ তলায়। সেখানে ওঠার জন্য ভিআইপি লিফ্টের পৃথক বন্দোবস্ত রয়েছে। কিন্তু মমতাকে দেখা যায় ভবনের বেসমেন্ট দিয়ে সাধারণ লিফ্টেই তিনি ১১ তলায় পৌঁছেছেন।
লাউডন স্ট্রিটের প্রতীকের বাড়িতে ইডির তল্লাশির মধ্যেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সল্টলেকে তিনি যখন আইপ্যাক-এর দফতরে পৌঁছোলেন তখন দেখা গেল, গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছেন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ কর্তারা। ঘড়ির কাঁটায় যখন দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট, তখন আইপ্যাক-এর দফতরে পৌঁছোন মমতা। বেলা ১টা পর্যন্ত তিনি সেখানেই রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ রবিবারেও জমজমাট অধিবেশন! ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন নির্মলা
রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছেন সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাক-এর দফতরে।
আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি চালানোর সময়ে বহুতলটির প্রবেশ এবং বাইরে বেরোনোর ফটক সিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মমতা যখন সেখানে পৌঁছোন দেখা যায় দু’টি দরজাই বন্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে বেসমেন্ট দিয়ে লিফ্টের দিকে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে যান ১১ তলায় আইপ্যাক-এর দফতরে।
ইডি-র দল আইপ্যাক-এর দফতরে যখন থেকে তল্লাশি শুরু করে তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিল। তার পরেই সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারটেও। মমতা যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ে। পাল্লা দিয়ে বাহিনী বাড়ায় বিধাননগর পুলিশও।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মমতা। গাড়ি থেকে নেমে তিনি ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। কয়েক মিনিট পরে একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। আইপ্য়াক কর্ণধারের বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল! আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি।”
প্রতীকের বাড়ির সামনে থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, “উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।”









