কলকাতা:
বাংলা টেলিভিশন মিডিয়ার চেনা ও চর্চিত মুখ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ রিপাবলিক বাংলা (Republic Bangla)-র সাথে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টানতে চলেছেন কি না, তা নিয়ে সংবাদমহলে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও না হলেও, নিউজরুমের খবর ও তাঁর সামাজিক মাধ্যমের সাম্প্রতিক পোস্ট সেই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘SSKM-এ যাব না’; বিদেশ যাওয়া আপাতত স্থগিত অভিষেকের
অফিসিয়াল গ্রুপ থেকে বিদায় ও নিউজরুমের ঘটনাপ্রবাহ
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার নিউজরুমে নিজের শেষ কাজ সম্পন্ন করার পর ময়ূখ ঘোষ একাধিক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন:
-
গ্রুপ ও ই-মেল ত্যাগ: অফিসিয়াল সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে তিনি বেরিয়ে গিয়েছেন এবং সরকারি ই-মেল ব্যবহারও বন্ধ করেছেন।
-
কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহকর্মীদের দাবি, নিজের সিদ্ধান্তের কথা তিনি রিপাবলিক বাংলা কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন।
তবে এই বিষয়ে চ্যানেল বা ময়ূখ ঘোষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি মেলেনি।
আরও পড়ুনঃ হাসিনার ভয়ে বাংলাদেশ সরকার! শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভাষণ সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের তারেক সরকারের
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নতুন চমকের বার্তা
মঙ্গলবারই ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। সেখানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বাংলাদেশ সংক্রান্ত কভারেজকে তাঁর সাংবাদিকতার অন্যতম সেরা অধ্যায় বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বার্তা দেন:
-
ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রকাশ করার পাশাপাশি ভারত, বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত দেন তিনি।
-
নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত: পোস্টের শেষ লাইনে তিনি লেখেন— “সবার আগে সব খবর দেব। কলকাতা থেকে কারাকাস, ঢাকা থেকে দামাস্কাস—নজর রাখুন।” এই বার্তাকেই তাঁর নতুন পেশাগত যাত্রার বা ডিজিটাল সাংবাদিকতায় পা রাখার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনুগামীরা।
বিতর্ক ও জনপ্রিয়তা
ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত লাইভ গ্রাউন্ড রিপোর্টিং, স্টুডিওতে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সংবাদ উপস্থাপনা এবং চাঁচাছোলা বক্তব্যের জন্য বাংলা দর্শকদের কাছে ময়ূখ অত্যন্ত পরিচিত মুখ।
আরজি কর মেডিকেল কলেজ কাণ্ড, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন এবং মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় তাঁর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের কভারেজ বিশেষ নজর কেড়েছিল। এর পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর তিনি বারবার জোর দিয়েছেন।
তিনি কি রিপাবলিক বাংলায় ফিরবেন, অন্য কোনো বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন নাকি নিজের নতুন কোনো ডিজিটাল উদ্যোগ শুরু করবেন—তার উত্তর পেতে আপাতত নজর থাকছে তাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই।


