যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আর এরপরই বিশ্ব তেলের বাজারে স্বস্তি দেখা গিয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহে যে ব্যাঘাত ঘটছিল, সেই সমস্যা এবার মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এই প্রত্যাশায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নীচে নেমে গেছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। এর ফলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৯২ ডলারের নীচে। এদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডাব্লুটিআই) দাম নেমে প্রায় ৯৫ ডলারের স্তরে পৌঁছেছে। গত ৬ বছরে ডাব্লুটিআই-র দামে একদিনে এতটা পতন দেখা যায়নি আর। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় এখনও ডাব্লুটিআই-র দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌপথ পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই পরিস্থিতিতে বলেছেন, ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে সব জাহাজকে এই দুই সপ্তাহের জন্য নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে করতে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। এর মধ্যে অবশ্য ভারতের বেশ কয়েকটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছিল। তবে সংখ্যাটা খুব বেশি না হওয়ায় ভারতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও বিশ্বের বাকি দেশেও জ্বালানি সংকট প্রবল আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুনঃ ভোট অঙ্কে বিরাট পরিবর্তন! বঙ্গের সরকার নির্ধারিত হবে ১০০ আসনেই
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা।
১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং। ইরান যুদ্ধের আবহে সমুদ্রে যতজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা সকলেই ভারতীয় বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে সম্প্রতি ভারত ক্ষোভ প্রকাশও করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ায় ভারতও স্বস্তি পাবে।



