আরজি কর কাণ্ডে তড়িঘড়ি মৃতদেহ সৎকার এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের ব্যক-টু-ব্যাক বড়সড় পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পর, ওই একই দিনে রাতে পুলিশের জালে এলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘বুড়িমা’র গয়না চুরি, গ্রেফতার পুজোর সম্পাদক গৌতম ঘোষ
সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি ও অভিযোগ
-
বাড়ির পাশ থেকেই গ্রেফতার: নিহত তিলোত্তমার বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই বাড়ি সঞ্জীবের। বিগত কয়েকদিন তিনি আত্মগোপন করেছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের কাছে যোগাযোগের কথা জানালেও, বৃহস্পতিবার রাতে পানিহাটির অম্বিকা মুখার্জী রোড সিআর পার্কে নিজের বাসভবন থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ।
-
গুরুতর অভিযোগসমূহ: সঞ্জীবের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগগুলি হলো—
-
তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা,
-
নিহতের পরিবারকে ভুল পথে চালিত বা বিভ্রান্ত করা,
-
বলপূর্বক বাড়ি থেকে মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া এবং তড়িঘড়ি সৎকার করানো।
-
আরও পড়ুনঃ কড়া অ্যাকশন; মমতার দেওয়া অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নিলেন শুভেন্দু
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাক-টু-ব্যাক গ্রেফতারি
নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে এই মামলায় পুলিশের সক্রিয়তা নজরকাড়া:
-
শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা ও এফআইআর: গত ৯ অগস্ট নিহতের স্মরণসভায় অবিলম্বে তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বার্তা দেন প্রশাসনিক শীর্ষ নেতৃত্ব। এর পরেই পরিবারের তরফে খড়দহ থানায় অভিযোগ জানানো হয়।
-
৩ অভিযুক্তের নাম: নিহতের বাবা যে ৩ জন মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন, তাঁরা হলেন— ১. নির্মল ঘোষ (বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার) ২. সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় (বৃহস্পতিবার রাতে নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেফতার) ৩. সোমনাথ দে (১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর; তিনি এখনো পলাতক, পুলিশ তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে)।
বর্তমানে পুলিশ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। ঘটনার তদন্তে অন্যান্য কারা যুক্ত ছিল তা খতিয়ে দেখছে খড়দহ থানা।


