বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি:
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটাধিকার হরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে রাজপথে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হলো দিল্লিতে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতারা।
তবে নির্বাচন কমিশন ভবন পৌঁছনোর পথেই নীতি আয়োগ কার্যালয়ের কাছে কয়েক স্তরের দুর্ভেদ্য ব্যারিকেড গড়ে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদবদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। বাধা পেয়ে পুলিশি ব্যারিকেডের সামনেই রাস্তায় বসে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। রাজপথ কেঁপে ওঠে ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’ এবং ‘সংবিধান রক্ষা করো’ স্লোগানে।
আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশের কিসের ভয়?’ সাংবাদিক নিগ্রহে সুর চড়ালেন রাহুল
৩১ কোম্পানি বাহিনী ও ৩ হাজার জওয়ান: কড়া নিরাপত্তায় মোড়া দিল্লি
বিরোধীদের ‘নির্বাচন সদন অভিযান’ রুখতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলে কেন্দ্রীয় প্রশাসন:
-
বিপুল পুলিশ মোতায়েন: রাজপথে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩১ কোম্পানি (প্রায় ৩,৫০০ জন) পুলিশকর্মী নামানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৪ কোম্পানি বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন।
-
মেট্রো ও রাজপথে কড়া নজরদারি: সেন্ট্রাল দিল্লির প্রধান মেট্রো স্টেশনগুলিতে বাড়ানো হয়েছে অতিরিক্ত নজরদারি। সংসদ ভবন, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং নির্বাচন কমিশনের গেটের সংযোগকারী সমস্ত রাস্তায় সাঁড়াশি ব্যারিকেড ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘শ্লীলতাহানির পুরস্কার?’, সাংবাদিকদের যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের পদোন্নতি! গর্জে উঠলেন রাহুল-বৃন্দা
রাস্তায় ধর্ণায় বসে খড়্গের তোপ, ব্যারিকেডের ওপর চড়ে অখিলেশের বিক্ষোভ
নীতি আয়োগের সামনে রাস্তায় বসে পড়ে অল-আউট আক্রমণে নামেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন—
“স্বাধীনতার পর পাওয়া সর্বজনীন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পুরোপুরি মোদী-শাহের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন। এমনটা চলতে থাকলে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম হবে, তার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন থামবে না।”
অন্যদিকে, পুলিশের বাধার মুখে মেজাজ হারিয়ে সমাজবাদী পার্টির সাংসদদের নিয়ে সোজা লোহার ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন অখিলেশ যাদব। ব্যারিকেডে বসেই মাইক হাতে সরব হয়ে সপা প্রধান বলেন—
“২০১৭, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪—পরপর নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর এবার পশ্চিমবঙ্গে তো কমিশন পুরো নির্লজ্জের মতো আচরণ করেছে!”
| প্রধান বিরোধী মুখ | আন্দোলনের মূল দাবি ও রাজনৈতিক সুর |
| মল্লিকার্জুন খড়্গে ও রাহুল গান্ধী | সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিতের দাবি। |
| অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় | ভোটাধিকার হরণের প্রতিবাদে সংসদ থেকে রাজপথ স্তরে যৌথ সংগ্রামের ডাক। |
| অখিলেশ যাদব | পশ্চিমবঙ্গ ও যোগী রাজ্যে কমিশনকে ব্যবহার করে বুথ দখলের প্রকাশ্য অভিযোগ। |
লুটের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই রাজপথ দখলের জেরে মঙ্গলবার সেন্ট্রাল দিল্লির ট্র্যাফিক সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্টের আইনি জট এবং রাজপথের এই সাঁড়াশি আন্দোলনের মুখে নির্বাচন কমিশনের ওপর যে পর্বতপ্রমাণ চাপ তৈরি হলো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।


