বিশেষ জাতীয় ও আইনি প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে প্রস্তাবিত মার্চ ও স্মারকলিপি জমা দেওয়ার ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় প্রশাসনিক ধাক্কা খেল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Bloc) জোট। বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত।
শীর্ষ আদালতের প্রশাসনিক স্তরে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই ধরনের বৈঠক করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক আর্জির বদলে সঠিক বিচারপ্রক্রিয়া মেনে আদালতে ফরমাল পিটিশন ফাইল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এত সাহস আসছে কোথা থেকে? ‘বন্ডে সই করিনি’, আদালতের শর্তকে থোড়াই কেয়ার দীপকের!
প্রধান বিচারপতির বার্তা ও আদালতের অবস্থান
ইমেল মারফত বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠির জবাবে প্রধান বিচারপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে:
-
মামলা বিচারাধীন: বিরোধীরা যে সমস্ত বিষয় (SIR এবং নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব ও নিয়োগ সংক্রান্ত) নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, সেই সংক্রান্ত মামলাগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারপ্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
-
বিচারবিভাগীয় এক্তিয়ার: প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত স্তরে কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাৎ করা আদালতের এক্তিয়ার ও নিয়মনীতির পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টের কাজ হলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পেশ করা পিটিশন বা আবেদনের শুনানির পর বিচার বিশ্লেষণ করে রায়দান করা।
-
আদালতের দরজা সবার জন্য খোলা: একই সাথে স্মারকবার্তায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের দরজা প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের আইনি প্রতিকারের জন্য ২৪ ঘণ্টাই খোলা রয়েছে।
‘ইন্ডিয়া’ জোট ও ককরোচ জনতা পার্টির ৪ দফা প্রধান দাবি
এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে জমা দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টে পেশ করার পরিকল্পনা করা স্মারকলিপিতে বিরোধী জোটের মূল দাবিগুলি ছিল:
-
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্যান্য কমিশনারদের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সেই বিতর্কিত আইন বাতিল করা, যা নির্বাচন কমিশনারদের প্রশাসনিক ও আইনি সুরক্ষা (Immunity) প্রদান করে।
-
SIR স্থগিত ও ভোটার তালিকা পুনর্বহাল: বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) অবিলম্বে স্থগিত রাখতে হবে এবং ছাঁটাই বা বাদ যাওয়া প্রায় ১.৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
-
ব্যালট পেপারে প্রত্যাবর্তন: দেশের সমস্ত নির্বাচনে ইভিএমের (EVM) পরিবর্তে পুনরায় পেপার ব্যালট (Paper Ballots) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চালু করা।
-
বিগত নির্বাচনের পর্যালোচনা: গত দুই বছরের মধ্যে হওয়া সেই সমস্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করা, যেগুলিতে ‘ভোট চুরি’ ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট ও জোরালো অভিযোগ বা প্রমাণ সামনে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ ককরোচদের বিদেশি-যোগ আরও স্পষ্ট! দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলনকে জোরাল সমর্থন বাংলাদেশের হাসিনা-বিরোধী ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের
কর্মসূচিতে অনড় বিরোধী শিবির
প্রধান বিচারপতির এই সিদ্ধান্তের পরেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবারে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে বিরোধী দলগুলির মার্চ সংঘটিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, রবি ও সোমবারের এই প্রতিবাদ কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে নয়, এটি মোদী সরকারের নীতি, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত প্রতিবাদ। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সুপ্রিম কোর্টের বাইরে চলমান অবস্থান ও এই মার্চের কারণে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং পুরো দিল্লি জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী।


