বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
হঠাৎ করেই ভারতের রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম কি অনেকটাই কমে গেল? বুধবার সকাল থেকে দেশের ডিজিটাল স্পেসে এই নিয়ে তীব্র চর্চা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। ‘Google Trends’-এ ‘NSE Listing’ বা ‘National League’-এর মতো বড় বড় খবরের পাশাপাশি হঠাৎ করেই ট্রেন্ড করতে শুরু করে ‘গ্যাস’ শব্দটি। হাজার হাজার মানুষ সার্চ করতে থাকেন—সত্যিই কি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত কম দামে পাওয়া যাচ্ছে?
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রান্নার গ্যাসের সরকারি বা নির্ধারিত দামে কেন্দ্রীয় সরকার বা তেল সংস্থাগুলির তরফে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু পোস্ট ও বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের কারণেই এই জল্পনা তৈরি হয়।
আরও পড়ুনঃ পা দিয়েই গড়ছেন ৭০ জন শিশুর ভবিষ্যৎ! সিউড়ির জগন্নাথ স্যারের অনন্য লড়াই
কেন হঠাৎ Google Trends-এ ‘গ্যাস’ সার্চের বানভাসি?
২৩ সেপ্টেম্বর Google Trends-এ ‘গ্যাস’ কীওয়ার্ডটি হঠাৎ শীর্ষ তালিকার দিকে উঠে আসে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশের কয়েকটি জায়গায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ‘কমার্শিয়াল সিলিন্ডার’ বিক্রি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়াই এই বিপুল অনুসন্ধানের মূল কারণ। কিন্তু এই ছাড় কোনো সরকারি ছাড় বা সিলিন্ডারের দাম কমানো নয়; এর পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যবসায়িক বাস্তব পরিস্থিতি।
কেন ৪০০-৬০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছিল কমার্শিয়াল সিলিন্ডার?
তেল সংস্থাগুলি কোনো দাম না কমালেও স্থানীয় ডেলিভারি ও গ্যাস এজেন্সিগুলির অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়:
-
সরবরাহ ও খালি গাড়ি ফেরানোর চ্যাপ: গ্যাস এজেন্সিগুলিতে নিয়মিত যখন সিলিন্ডারের গাড়ি আসে, তাতে ডোমেস্টিক (গাড়হস্থ্য) সিলিন্ডারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু কমার্শিয়াল (বাণিজ্যিক) সিলিন্ডারও পাঠানো হয়। ধরা যাক, একটি গাড়িতে ১০০টি ডোমেস্টিক এবং ১৫টি কমার্শিয়াল সিলিন্ডার এসেছে।
-
জমে থাকা স্টক ও পরিবহন খরচ: ডোমেস্টিক সিলিন্ডার দ্রুত বিক্রি হয়ে গেলেও কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের চাহিদা সব জায়গায় সমান থাকে না। ফলে যে গাড়িটি সিলিন্ডার আনল, সমস্ত সিলিন্ডার খালি না হওয়া পর্যন্ত বা বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি ফেরত পাঠাতে সমস্যা হয়।
-
ছাড় দিয়ে স্টক ফাঁকা করার চেষ্টা: এজেন্সিগুলি দীর্ঘদিনের জমে থাকা বা আটকে থাকা কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ এবং জমে থাকার লোকসান এড়াতে মাঝে মাঝে নিজেদের কমিশন বা লভ্যাংশের অংশ ছেড়ে দিয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় দিয়ে তা বিক্রি করে দেয়, যাতে দ্রুত গাড়ি খালি করে ফেরত পাঠানো যায়।
আরও পড়ুনঃ পাহাড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছ প্রবল বৃষ্টি; ধসে বিপর্যস্ত সিকিম, হাই অ্যালার্ট নেপাল ও ভুটানেও
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আসল বার্তা
বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের স্থানীয় সরবরাহ সংক্রান্ত কৌশল। সাধারণ বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির ডোমেস্টিক রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কমা বা বাড়ার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে বাজারে গ্যাসের দাম হঠাৎ কমে যাওয়ার যে তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ায়, তা মূলত একটি বিভ্রান্তি।


