দেবজিৎ মুখার্জি, শিলিগুড়ি:
বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গোটা ভারতবর্ষ। দিনদিন বেড়ে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। সে গ্যাস হোক, তেল হোক কি ওষুধপত্র….. সবেতেই মানুষের পকেট থেকে যে অর্থ বেরিয়ে যায়, তা একটা বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকাল। বলা ভালো, রীতিমতো পকেটে টান পড়ার মতো অবস্থা। সরকারের তরফ থেকে দাবী করা হচ্ছে যে জিনিসপত্রের দাম কমেছে। কিন্তু আদৌ কি তা সত্যি? হ্যাঁ মুখে বলা হলেও বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। বহু ক্ষেত্রে এমনও দেখা গিয়েছে যে নির্ধারিত টাকায় যেই পরিমাণ জিনিসপত্র দেওয়া উচিত, তার চেয়ে অনেকটাই কম দেওয়া হচ্ছে। আশা করি বুঝতেই পারছেন যে খেলাটা কোথায় হচ্ছে?
আরও পড়ুনঃ ব্রহ্মা যোগের সঙ্গে ইন্দ্র যোগ, কৃষ্ণা চতুর্থীতে সাফল্যের দ্যুতিতে ঝলমলাবে এই চার রাশি
এই সবকিছুর মাঝে শিলিগুড়িতে যেই দৃশ্যের সাক্ষী হলো আমাদের সংবাদমাধ্যম ‘বঙ্গবার্তা’, তা এক কথায় বলতে গেলে চিন্তা করার মতো। বলা ভালো, অনেক প্রশ্ন উঠছে এর থেকে। এবার সরাসরি বিষয়টিতে চলে যাওয়া যাক। এই মুহূর্তে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে জোরকদমে চলছে ‘উত্তরবঙ্গ বইমেলা’।

এই ব্যাপারে একটু বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাক। মেলাটি হচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে এবং এটি শুরু হয়েছে চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে। মেলা শেষ হবে ১৪ তারিখে। সময় দুপুর দুটো থেকে রাত নটা পর্যন্ত।
রোজ এখানে মানুষ এলেও অনেকেই হয়তো তেমন গুরুত্ব দেননি একটি বিষয় নিয়ে, যা আমাদের সংবাদমাধ্যম ‘বঙ্গবার্তা’ দিয়েছে। সচরাচর বইমেলায় প্রবেশ করতে গেলে কোন অর্থ দিতে হয় না। কিন্তু ‘উত্তরবঙ্গ বইমেলা’র ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা একটি চিত্র দেখা গেল। ২০ টাকার টিকিট কেটে ঢুকতে হচ্ছে মেলায়।

শুনতেই ২০ টাকা মনে হতে পারে। কিন্তু একটু যদি জিনিসটা ভেঙে দেখেন, তাহলে দেখবেন যে কেউ যদি নিজের পরিবার নিয়ে আসে, তাহলে টিকিটের মূল্য সবমিলিয়ে প্রায় ১০০ টাকা বা তার বেশিও হয়ে যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই চাপের। বিনামূল্যে প্রবেশের জায়গায় প্রায় ১০০ টাকার কাছাকাছি টিকিটের দাম।
আরও পড়ুনঃ উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গ উভয় অঞ্চলেই শুকনো আবহাওয়া; সপ্তাহের প্রথম দিন কেমন থাকবে বঙ্গের আবহাওয়া
শুধু তাই নয়, ছাত্র পিছু দশ টাকা করে টিকিট নেওয়া হলেও একবারও যাচাই করে দেখা হচ্ছে না যে তারা ছাত্র কিনা। বঙ্গবার্তার তরফ থেকে যখন প্রশ্নটি তোলা হয়, তখন শিলিগুড়ির একজন সাধারন মানুষ বইমেলার অফিসে এসে এই টিকিটের মূল্য নিয়ে একই অভিযোগ করেছেন। তাহলে চিন্তা করুন সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা টান পড়ছে এমনটার জন্য। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জন্য এটা কতটা চিন্তার বিষয়। অর্থনৈতিক অবস্থার খারাপের দরুন ভারত সরকার এখনও বিনামুল্যে রেশন দিচ্ছেন, আবার যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গেলেই হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সকলে, সেখানে বইমেলায় প্রবেশ করতে গেলে টিকিটের মূল্য দিতে হচ্ছে। বলা যায়, এ একপ্রকার দ্বিচারিতা।
ছাত্রছাত্রীদের স্কুল কলেজের থেকে দেওয়া ডাইরি অথবা আইডেন্টিটি কার্ড না দেখেই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে দশ টাকার টিকিট। তাছাড়া যেখানে ভারত সরকার যথেষ্ট উদ্বিগ্ন চিকেন নেক-এর নিরাপত্তা নিয়ে সেখানে বই মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কোনরকম পরীক্ষা ছাড়াই অবাধে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। এক কথায় বলতে গেলে এই উত্তবঙ্গ বই মেলায় নিরাপত্তা ব্যাবস্থা শিকেয় উঠেছে। শনিবার ও রবিবার ছুটির দিন থাকার দরুন সন্ধ্যা থেকে ভির হলেও সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে এক প্রকার ভিড় হচ্ছে না বলে জানা গেছে বিশেষ সূত্র মারফত।

এখানেই শেষ নয়, আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে বইমেলায় সচরাচর আমরা বইয়ের দোকানের পাশাপাশি দেখি ফুডস্টল মানুষের খাওয়া-দাওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে যে চিত্রটি ধরা পরল আমাদের নজরে, সেটি হলো গিয়ে যে বইয়ের দোকান যেমন যা রয়েছে, তার সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে শাড়ি এবং মহিলাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্রও।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে এ কেমন ধরনের বইমেলা? শুধু তাই নয়, এর চেয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে যে শিলিগুড়ির মতো শহরে কিভাবে এমনটা হতে পারে? বলতে পারেন, আমরা সেখানে ঘুরে না দেখলে হয়তো বিষয়টি নিয়ে কেউ খুব একটা মুখ খুলতো না।

তবে সবমিলিয়ে, দিনের শেষে এমন দৃশ্য এক ধরনের ‘অ্যালার্মিং সিচুয়েশন’এর মতো।









