কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ভর সন্ধ্যায় আবার কাঁপল সিকিম। গত দু’দিনে একটার পর একটা কম্পন। যা অনুভূত হল একেবারে শিলিগুড়ি পর্যন্ত। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৩৫ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.২। কম্পনের কেন্দ্র ছিল সিকিমের পশ্চিম প্রান্তের জেলা গেলসিং।
তবে এই একটাই নয়। ৬টা বেজে ৫৪ মিনিটে আবার কেঁপে ওঠে এই পাহাড়ি রাজ্য। অবশ্য এবার কম্পনের মাত্রা আগের তুলনায় অনেকটাই কম ছিল। ওই সময় উত্তর সিকিমের মঙ্গন হয়ে ওঠে কেন্দ্রবিন্দু। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ২.৩। তৃতীয় কম্পনটাও হয়েছে আরও দু’মিনিট পর ৭টার দিকে। তখনও কম্পনের মাত্রা ছিল ২.৩। তবে এবার কম্পনের উৎসস্থল এখনও পর্যন্ত ঠাওর করা যায়নি।
গত দু’দিনে এই নিয়ে ১৮ বার কাঁপল পাহাড়ি রাজ্য সিকিম। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে কাঁপছে সিকিম। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাতেও। কম্পন অনুভূত হয়েছে ওপার বাংলাতেও। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর থেকে পশ্চিম সিকিম পুনরায় দুলে উঠতে কম্পন বোঝা যায় শিলিগুড়িতে। আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন। শুক্রবার দুপুরেও এই একই ছবি দেখা গিয়েছিল। সিকিমের কম্পনে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।
২০১১ সালের ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এখানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সোয়ার্ম একটা বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নাও হতে পারে, কিন্তু এটি ফল্ট লাইনে চাপ জমার লক্ষণ।স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের বলা হয়েছে, ভারী আসবাবের নীচে না থাকা, খোলা জায়গায় যাওয়া, এবং আফটারশকের জন্য প্রস্তুত থাকা। অনেক পর্যটকও এখন সতর্ক, কেউ কেউ ট্যুর শর্ট করে ফিরে যাচ্ছেন। গ্যাংটকের বাসিন্দা একজন বলেন, “রাতে ঘুম ভেঙে যায় প্রত্যেকবার কাঁপুনিতে।
মনে হয় কখন বড়টা আসবে।” আরেকজন যোগ করেন, “প্রার্থনা করছি, এটা শুধু সতর্কতা হোক, বিপদ নয়।”এই ঘটনা হিমালয় অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির অস্থিরতাকে ফের সামনে এনেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, ভুটান, নেপালের কিছু অংশেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। NCS-এর বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে। যদি কম্পনের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ে বা মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ বিধানসভায় রহস্যময় ২৯৯ নম্বর সিট! মুখ্যমন্ত্রীর পাশের আসন বরাবরই খালি থাকে
তবে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনও ঘটনা ঘটেনি।
সিকিমে এখন পর্যটনের ভরা মরসুম। এই সময় পাহাড়ি রাজ্য সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে কম্পন কার্যত ভয়ঙ্কর। বারংবার বর্ষার মরসুমে ভয়াবহ হয়ে ওঠে সিকিম। আটকে পড়েন পর্যটকরা। এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি সেই পথে এগোয়নি। কিন্তু বারংবার কম্পন নিয়ে একাংশের মনে যে ভয় তৈরি হয়নি তেমনটাও নয়।









