কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
বছর শেষে খুশির খবর! ডিসেম্বরের মধ্যেই সেবকে বিকল্প সেতু তৈরির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের সঙ্গে করোনেশন সেতু পরিদর্শনের পর এমনটাই দাবি করেছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট। তবে সেতুর কাজ কবে থেকে শুরু হবে সে বিষয়ে এদিন কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
আরও পড়ুনঃ স্মরণে আব্বাসউদ্দিন,সংগঠন চাঙ্গা করতে ‘বাংলা বাঁচাও’ যাত্রা সিপিএমের, ব্যক্তিপুজোয় মোহভঙ্গ
সাংসদের কথায়, ‘ইতিমধ্যেই সেতু সহ সংযোগকারী রাস্তাটি রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের হাত থেকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই)-এর কাছে হস্তান্তর হয়েছে। টেন্ডার হয়ে গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। এই সেতু তৈরি হয়ে গেলে দার্জিলিং, কালিম্পং পাহাড় এবং তরাই-ডুয়ার্সই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে।’ তিনি আরও জানান, নতুন সেতু সেবক থেকে শুরু হয়ে এলেনবাড়িতে গিয়ে নামবে। এই সেতু এবং সংযোগকারী রাস্তা অদূরভবিষ্যতে শিলিগুড়ি রিং রোড এবং শিলিগুড়ি থেকে গোরখপুরের সংযোগকারী এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। দ্বিতীয় সেতু তৈরি হলে করোনেশন সেতুর ওপরে চাপ অনেকটাই কমবে।
অন্যদিকে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা জানান, দুর্বল করোনেশন সেতু হয়ে ভারী যানবাহন চলাচল রুখতে হাইট ব্যারিয়ার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারী যানবাহন চলাচল আটকাতে পুলিশি নিরাপত্তা থাকলেও মাঝেমধ্যে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। সেটা আটকাতেই সেতুর দু’পাশেই হাইট ব্যারিয়ার বসানো হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে হাইট ব্যারিয়ারের নির্মাণকাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৭-১৯৪১ সালের মধ্যে সেবকে করোনেশন সেতু তৈরি করা হয়। শিলিগুড়ির সঙ্গে ডুয়ার্সের যোগাযোগের জন্য একটা আর্চের ওপরে তৎকালীন প্রযুক্তির সাহায্যে তিস্তা নদীর ওপরে এই সেতু তৈরি হয়। তবে দশকের পর দশক ধরে এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের হার বেড়েছে। এদিকে, এতদিন পর সেতুটিও অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। সে সময় অনেক পরীক্ষানিরীক্ষার পরে ফাটল মেরামত করে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ১০ টনের বেশি ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মোটা টাকা তোলার অভিযোগ ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শিলিগুড়ির শীতলাপাড়ায়! স্কুল ভাড়া দিয়ে টাকা তুলছে ক্লাব
করোনেশন সেতু দুর্বল হওয়ায় সেটির বিকল্প সেতু তৈরির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠেছে। ওদলাবাড়ি, মালবাজার সহ ডুয়ার্স থেকে এই দাবিতে বহু আন্দোলনও হয়েছে। এর পরেই কেন্দ্রীয় সরকার সেবকে করোনেশনের বিকল্প সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক বছর ধরে সমীক্ষার পরে সেতু তৈরির জন্য ডিটেইলস প্রোজেক্ট রিপোর্টও তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই কাজের জন্য ১১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এখন অপেক্ষা টেন্ডারের।
এদিকে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন সফল হওয়ায় খুশি ডুয়ার্স ফোরামের সদস্যরা। এই ফোরামের অন্যতম সদস্য চন্দন রায় জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে বিকল্প সেতু তৈরি হতে চলেছে। এটা খুবই খুশির খবর। তবে কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত আশ্বস্ত হওয়া যাচ্ছে না। পদ্মশ্রী করিমুল হক বলেন, আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীকে বিকল্প সেতুর দাবির জানিয়েছিলাম। তবে যতক্ষণ না পিলার তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে ততক্ষণ উচ্ছাসে গা ভাসাতে চাই না।









