বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা SIR এর তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মৃত, ডুয়াল ভোটার বাদ দিয়েও বেশ কয়েক লক্ষ বৈধ বাঙালি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ হয়ে গেছে, অর্থাৎ তারা ভোটদানের নাগরিক অধিকার হারিয়েছে। এরপর গতকাল তালিকায় আরও ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। মতুয়া, নমশূদ্র সহ দেশভাগের বলি হওয়া লাখ লাখ উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে বিজেপি। CAA তে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেছিল, দেয়নি। এদিকে SIR এর মাধ্যমে উদ্বাস্তু বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নিল বিজেপি।
আরও পড়ুনঃ হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব কাঁপছে; কিন্তু নীরবে “এনার্জি জ্যাকপট” পেল ভারত ও রাশিয়া?
এছাড়াও ৬০ লক্ষ বাঙালি ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন হয়ে আছে, এর মধ্যে ঘটি মুসলমান বা ঘটি হিন্দু বাঙালি যেমন আছে, তেমন আছে দেশভাগের বলি উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালিও। ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত বাঙালি। রোহিঙ্গা ধরার নাম করে SIR করে এখন লাখ লাখ বৈধ বাঙালিকে বাদ দিয়ে ও ৬০ লাখ বৈধ বাঙালিকে ঝুলিয়ে রেখে ছেলেখেলা করছে নির্বাচন কমিশন। বাংলা পক্ষ প্রশ্ন করছে, এই বাদ যাওয়া ৬৩ লাখের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা?
এদিকে দু রাজ্যে ভোটারকার্ড থাকা কয়েক লক্ষ বহিরাগত ক্রিমিনালের নাম SIR থেকে বাদ পড়লেও এখন কমপক্ষে বহিরাগত ৩০-৪০ লাখ ক্রিমিনাল আছে, যাদের দু রাজ্যে ভোটার কার্ড আছে। এদের নাম বাদ দিল না কেন বিজেপির নির্বাচন কমিশন?
এই SIR আসলে বাঙালি বিদ্বেষী বিজেপির বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত, তাই এর প্রতিবাদ করে গতকাল কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছিল বাংলা পক্ষ। রাসবিহারী মোড় থেকে শুরু হয়ে হাজারো প্রতিবাদী বাঙালির মিছিল শেষ হয় গড়িয়াহাট মোড়ে। বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও মিছিলে পা মেলান সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, আব্দুল লতিফ, মহ: সাহিন প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা, উত্তর ২৪ পরগণা (শহরাঞ্চল) জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়, উত্তর ২৪ (গ্রামীণ) জেলার সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, হাওড়ার জেলা সম্পাদক মিঠুন মন্ডল, হুগলীর জেলা সম্পাদক কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, নদীয়ার জেলা সম্পাদক কৌশিক বর্মন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক কুশনাভ মন্ডল সহ বিভিন্ন জেলার নেতৃত্ব।
মিছিল শেষে গড়িয়াহাট মোড়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন ” এই SIR আসলেই বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নাগরিক অধিকার হরণের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। যে কোটি কোটি রোহিঙ্গার কথা বলা হয়েছিল, তারা কোথায়? নাম বাদ গেছে মূলত উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির। যাদের মধ্যে বড় সংখ্যায় মতুয়ারা আছেন। যাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নাম করে ভোট পেয়েছিল বিজেপি, আজ তাদেরই ভোটাধিকার কাড়ল বিজেপি! বিজেপি হিন্দু বাঙালিরও বন্ধু নয়। যে ৬০ লক্ষ বাঙালির নাম বিবেচনাধীন হয়ে আছে, তাদের সিংহভাগ এই বাংলার ঘটি মুসলমান বাঙালি। যাদের পূর্ব পুরুষের জমি বাড়ির সব তথ্য আছে, তাদেরও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ঝুলিয়ে রাখা হল। বাঙালি বিদ্বেষী বিজেপির এই ঘৃণ্য চক্রান্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ লড়াই করবে বাংলা পক্ষ।”
আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্যে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা
তিনি মতুয়াদের নাগরিকত্বের গল্প শুনিয়ে তাদের দিয়েই মুসলমান বিদ্বেষ ছড়িয়ে, তাদেরই ভোটাধিকার কাড়ার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেন। মতুয়াদের ভোটে জেতা বিজেপির বিধায়ক, সাংসদরা দায় এড়াতে পারে না বলেই তিনি দাবি করেন।
শীর্ষ পরিষদ সদস্য মহ: সাহিন কিভাবে উত্তর ২৪ পরগণার আমডাঙা, বাগদা, হাবড়া অঞ্চলের উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালি ভোটাধিকার হারিয়েছেন তা তথ্যসহ তুলে ধরেন।
শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, “বিবেচনাধীন সকল বৈধ ভোটারকে অবিলম্বে চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত করতে হবে। বাদ যাওয়া বৈধ ভোটারদের পুনরায় আবেদন করে নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দিতে হবে। একজনও বৈধ ভোটারকে বাইরে রেখে তালিকা চূড়ান্ত করা যাবে না।”









