বিধানসভা ভোটের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বা যাঁরা জামিনে মুক্ত—এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের এই বিষয়ে জরুরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কালিয়াচক-কাণ্ডে বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার মোফাক্কেরুল
কী বলা হয়েছে নির্দেশে?
২ এপ্রিল রাতে পাঠানো ওই নির্দেশে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যাঁরা নিরাপত্তা পাচ্ছেন, তাঁদের তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ও পুলিশ জেলার ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে—
অভিযুক্ত বা অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা তুলে নিতে হবে।
যাঁরা পদমর্যাদা বা প্রকৃত হুমকির ভিত্তিতে নিরাপত্তার যোগ্য নন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে দ্রুত, এমনকি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কাজ “বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের মধ্যেই” সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) ও পুলিশ সুপারদের দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে আপডেটেড স্ট্যাটাস রিপোর্ট পাঠাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে—নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কোনও আপস করা হবে না।
যাঁরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বা অন্য কোনওভাবে নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা হতে পারে। একইসঙ্গে প্রশাসনের ওপরও চাপ বাড়ছে, কারণ খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে।
বস্তুত কমিশন যে পদক্ষেপ করেছে তার নেপথ্যে রয়েছে কালিয়াচকের ঘটনা। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন চাইছে, নিরাপত্তা শুধুমাত্র প্রকৃত ঝুঁকির ভিত্তিতেই দেওয়া হোক—কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে নয়।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই বড়সড় রদবদল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন ফেলতে পারে। এখন নজর থাকবে—কত দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর হয় এবং তার প্রভাব নির্বাচনী পরিবেশে কতটা পড়ে।



