Saturday, 26 September, 2026
26 September
HomeদেশECI: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে দুই কমিশনারকেই উপেক্ষা! ‘ভোট-চুরি’ রুখতে শেষনের...

ECI: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে দুই কমিশনারকেই উপেক্ষা! ‘ভোট-চুরি’ রুখতে শেষনের পথে চলেছেন জ্ঞানেশ?

১৯৯০ সালে সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন টি এন শেষন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

জাতীয় রাজনৈতিক সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি:

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) ‘নিরপেক্ষতা’ ও কার্যপ্রণালী নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে তোপ দেগেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে, তাঁর তীব্র সমালোচনা ও গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরীওয়ালের মতো শীর্ষ বিরোধী নেতৃত্ব। একই সঙ্গে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশীকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজ জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে যে আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নব্বইয়ের দশকে দেশের প্রাক্তন প্রখ্যাত সিইসি টি এন শেষনের (T. N. Seshan) জমানার সংঘাতেরই প্রতিধ্বনি।

আরও পড়ুনঃ  ‘সততা ও নীতিতে আপসহীন বঙ্গবার্তা’; রাজ্য নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো রাজনৈতিক আর্থিক প্রলোভনে পা দেয়নি চ্যানেল

অতীতের ইতিহাস: শেষন জমানা ও ‘একক কর্তৃত্বের’ বিতর্ক

১৯৯০ সালে সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন টি এন শেষন। সচিত্র পরিচয়পত্র চালুর পাশাপাশি ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কড়া হাতে প্রশাসন পরিচালনা করার জন্য তিনি কিংবদন্তিতে পরিণত হন। তবে ইসিআই-এর সর্বময় ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন এই ‘ডাকাবুকো’ আমলা।

১৯৯৫ সালে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলের সাক্ষাৎকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও শেষন তাঁদের ভূমিকা স্বীকারই করতেন না।

  • কমিশনের পরিকাঠামোগত বিবর্তন: ১৯৫০ সালে গঠিত ইসিআই মূলত এক-সদস্যের সংস্থা ছিল। ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধী সরকার একে তিন সদস্যের সংস্থায় রূপান্তর করলেও, ১৯৯০ সালে ভি পি সিংহ সরকার পুনরায় আগের জায়গায় ফিরে যায়। অবশেষে ১৯৯৩ সালে পি ভি নরসিমা রাও সরকার স্থায়ীভাবে এটিকে তিন সদস্যের সংস্থায় পরিণত করে।

  • ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: নরসিমা রাও সরকারের দুই কমিশনার (গিল ও কৃষ্ণমূর্তি) নিয়োগকে নিজের ‘ডানা ছাঁটার প্রচেষ্টা’ বলে মনে করতেন শেষন। দুই কমিশনারকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইলের অ্যাক্সেস দিতেও অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  পার্ক স্ট্রিটের গোমাংস বিতর্ক ও সায়কের গ্রেফতারি; বিজেপির নির্বাচন খরচের তালিকায় কোটি টাকার ইউটিউবার-যোগ ঘিরে শোরগোল

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় ও সংবিধানের ধারা

১৯৯৩ সালে দুই কমিশনার নিয়োগের বৈধতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে যান শেষন।

১. ১৯৯৫ সালের রায়: প্রধান বিচারপতি এ এম অহমদীর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে একক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বৈরাচারী ক্ষমতা সংবিধান দেয়নি। তিন কমিশনারেরই পদাধিকার ও মর্যাদা সমান। ২. সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা: ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী, ইসিআই-এ একাধিক সদস্য থাকলে সিইসি তার চেয়ারম্যান হবেন ঠিকই, তবে বাকি কমিশনারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাজ করাই সাংবিধানিক নিয়ম।

বর্তমান প্রেক্ষিত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

নব্বইয়ের দশকে টি এন শেষন যেভাবে বাকি দুই কমিশনারকে এড়িয়ে একক সিদ্ধান্তে কমিশন চালাতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও ঠিক একই ধরনের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। সংবিধানের ৩২৪ ধারা লঙ্ঘন করে দুই কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে কাজ করার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত শেষন জমানার মতোই পুনরায় আদালতের দরজায় গড়ায় কি না, এখন সেটাই দেখার।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন