কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ছাপ এবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রশাসনিক পরিকাঠামোতেও। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল সরকারের সময় সরকারি ভবনের নীল-সাদা রং ছিল এক পরিচিত চিহ্ন। নবান্ন থেকে শুরু করে ব্লক অফিস, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড সবখানেই সেই রঙের ছাপ ছিল। উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর উত্তরকন্যাও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সেই পরিচিত নীল-সাদা রঙের অধ্যায় বন্ধ হতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘রিপাবলিক অব বালোচিস্তান’, স্বাধীনতা ঘোষণা করল বালোচিস্তান
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরের ঠিক আগে উত্তরকন্যার বহিরঙ্গ দ্রুত হলুদ-সাদা রঙে রাঙিয়ে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শনিবার অমিত শাহ উত্তরকন্যায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন এবং সেই বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলছে রং পরিবর্তনের কাজ। শুক্রবার থেকেই উত্তরকন্যা চত্বরে রংমিস্ত্রিরা ব্যস্ত।
অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এটি শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ নয়, নতুন সরকারের প্রশাসনিক দর্শনের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অতীতের নীল-সাদা রঙ কার্যত একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্র্যান্ড ছিল, যা সরিয়ে নতুন রঙ ব্যবহারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বোঝানো হচ্ছে।
শনিবারের বৈঠকে অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা, বিএসএফের সীমান্ত চৌকির আধুনিকীকরণ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রোধের কৌশল বিষয়গুলো বৈঠকের আলোচ্য বিষয়।
আরও পড়ুনঃ প্রথমে বাড়ির বউ, তারপর কর্তা, তারপর দেওর, তিন দিনে একই পরিবারের পরপর তিন মৃত্যু
অমিত শাহ সফরের প্রাক্কালে শিলিগুড়ি ও আশেপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, উত্তরকন্যা চত্বরকে নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তরকন্যার রঙ পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের দৃশ্যমান প্রতীক। তবে সরকারিভাবে এটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।


