কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
কার্তিক মাস থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। একসময় বছরের এই সময়ে ধুনকরদের ব্যস্ততা থাকত তুঙ্গে। শিলিগুড়ি শহরেও এই একই ছবি দেখা যেত। লেপ তৈরির চাহিদা থাকত। তাই ধুনকররা যেন নিঃশ্বাস ফেলার সময় পেতেন না। তবে যুগের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুর চাহিদা বদলে গিয়েছে। একসময় লাল কাপড়ের ভেতর তুলো দিয়ে তৈরি লেপের জায়গা ধীরে ধীরে যেন ব্ল্যাঙ্কেট দখল করে নিচ্ছে। ফলে লেপ যাঁরা তৈরি করতেন সেই ধুনকরদের রুজিরুটি এখন সংকটে।
আরও পড়ুনঃ থরথর করে কাঁপল কলকাতা সহ গোটা বাংলা; ঢাকার কাছে ভূমিকম্প
শীতের শুরুতে শিলিগুড়ির বিভিন্ন রাস্তায় হরেকরকম ব্ল্যাঙ্কেটের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ভিনরাজ্য থেকে আগত ব্যবসায়ীরা। রাস্তার পাশে ফাঁকা জায়গায় এই ব্যবসায়ীরা দোকান সাজিয়ে বসেছেন। শহরবাসীও বেশ উত্সাহ নিয়ে সেইসব দোকানে ভিড় করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে লেপের চাহিদা ও বিক্রি কমে যাচ্ছে। ভিনরাজ্য থেকে আগত এইসকল ব্যবসায়ীদের বিক্রি বেশ ভালো হলেও ধুনকরদের কপালে যেন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
শহরের একটি রাস্তার পাশে রংবেরংয়ের ব্ল্যাঙ্কেট নিয়ে বসেছিলেন শ্যাম সিং। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ব্ল্যাঙ্কেটগুলি মূলত পঞ্জাবের লুধিয়ানা, অমৃতসর থেকে এই শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছি। ক্রেতাদের মধ্যে এই জিনিসের ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর শীতকালজুড়ে বেশ ভালো বিক্রি হয়। শীত শেষে আমাদের ভালো লাভ হয়।’ তিনি জানান, গতবছরও তিনি এই শহরে ব্ল্যাঙ্কেটের সম্ভার নিয়ে এসেছিলেন। গতবছর বিক্রি ভালো হয়েছিল তাই এবছর ফের তিনি দোকান দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ সাতসকালে কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের ২৫ জায়গায় তল্লাশি
শহরের বাসিন্দা অশোক দাসের কথায়, ‘বছর দুয়েক আগে আমি নিজের ব্যবহারের জন্য এরকম একটা ব্ল্যাঙ্কেট কিনেছিলাম। এবছর ভেবেছিলাম দুই মেয়ের জন্য দুটো ব্ল্যাঙ্কেট কিনব। তাই জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগে কিনতে এসেছি।’ তাঁর মতে, ‘লেপ ব্যবহার করতে করতে একসময় ছিঁড়ে যায়। সেদিক থেকে ব্ল্যাঙ্কেট বেশ টেকসই। ছিঁড়ে যাওয়ার ঝামেলা থাকে না।’
যদিও এই ব্ল্যাঙ্কেট আসার পর থেকে ধুনকরদের ব্যস্ততা যেন কমে গিয়েছে। তাঁরা জানান, এই শীতের মরশুমে একেকদিন কাজের এত চাপ থাকত যে, তাঁরা দুপুরের খাবার রাতে খেতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই ছবি সম্পূর্ণ পালটে গিয়েছে। এখন আর সেরকম কাজের অর্ডার থাকে না বলে তাঁদের গলায় আক্ষেপের সুর শোনা যায়। ব্ল্যাঙ্কেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় লেপের চাহিদা কমে গিয়েছে। জলিল মিয়াঁ নামে এক ধুনকর হতাশার সুরে বলেন, ‘আগে শীতের মরশুমে তিন-চার মাস আমরা যে পরিমাণ কাজ করতাম সেই আয় দিয়ে প্রায় সারাবছর চলে যেত। কিন্তু এখন আর সেইদিন নেই।’









