ছুটির দিনেও ছুটি নেই। তবে ছুটোছুটি থাকবে। কারণ, চিঠি থাকবে। রবিবার থেকে কলকাতা শহরে ‘হলিডে’ পরিষেবা শুরু করছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। দেশের বাকি পাঁচটি মেট্রো শহরের মতো কলকাতাতেও শুরু হয়ে যাচ্ছে সেই কাজ। সেই মর্মে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছে ডাক বিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কলের প্রধান পোস্টমাস্টার জেনারেলের দফতর।
রবিবার তো বটেই, ২৬ জানুয়ারি, ১ মে, ১৫ অগস্টের মতো জাতীয় ছুটির দিনেও ‘রানার’ ছুটবে নথি, চিঠি, পার্সেল নিয়ে। কলকাতা শহরের মোট ৪২টি জায়গাকে ‘হাব’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে ডাকবিভাগ। সেই তালিকাও ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে জিপিও, যোগাযোগ ভবন এবং বিমানবন্দরের ডাকবিভাগের দফতরে।
এই ৪২টির মধ্যে ৩৪টি জায়গা থেকে যাবে নথি এবং পার্সেল, ৮টি জায়গা থেকে যাবে শুধু পার্সেল। তবে আপাতত এই পরিষেবা সীমাবদ্ধ থাকবে কলকাতা শহরেই। ভবিষ্যতে এলাকা সম্প্রসারিত হতে পারে বলে জানাচ্ছেন ডাক কর্তাদের একাংশ।
আরও পড়ুনঃ কে করবে সরস্বতী পুজো? বালুরঘাট কলেজে TMCP vs TMCP
এই পথে হাঁটতে হল কেন? কলকাতা জিপিও-র এক কর্তার কথায়, ‘‘অনলাইন ব্যবসার রমরমা হওয়ার পর থেকেই ডেলিভারি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছিল। বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। সে কারণে বছর দেড়েক ধরেই এ হেন ভাবনা চলছিল। অবশেষে তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।’’ নতুন রেশন কার্ড, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড মানুষের কাছে পৌঁছোয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে। গত ১০ বছরে বাণিজ্যিক এবং সরকারি দফতরে চিঠি পাঠানোর পরিমাণ বিপুল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি ডাক কর্তাদের। কেমন বৃদ্ধি? কলকাতা জিপিও সূত্রে খবর, প্রতি সোমবার শুধু অফিসপাড়ায় (রাজভবন থেকে বড়বাজার এবং স্ট্র্যান্ড রোড থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত) গড়ে চিঠি বিলি হয় ১৬-১৮ হাজার। মঙ্গল থেকে শুক্র সেটা হয় ১০-১২ হাজার। একইসঙ্গে পার্সেল ডেলিভারির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তা-ই নয়, প্রতিদিন সেই সংখ্যা বাড়ছে।
স্পি়ড পোস্টের মাধ্যমে পাঠানো নথি, চিঠি বা পার্সেল পৌঁছোনোর ক্ষেত্রে পরিষেবা মসৃণ করতেই এই পরিকল্পনা বলে খবর। স্পিড পোস্ট দু’ধরনের হয়। ২৪ ঘণ্টার এবং ৪৮ ঘণ্টার। ২৪ ঘণ্টার স্পিডপোস্টের মাধ্যমে নথি এবং পার্সেল দুটোই যাবে। আর ৪৮ ঘণ্টার ডেলিভারির মাধ্যমে যাবে শুধুমাত্র নথি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু অনলাইন বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়াও বেঁধেছে ভারতীয় ডাক। ফলে চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচটি অর্থবর্ষের পরিসংখ্যান দেখলে স্পষ্ট, কোভিড-উত্তর পর্বে অনলাইনে পণ্য কেনার হার গড়ে প্রতি বছর ৭-৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যোগাযোগ ভবনের এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য, আগামী এক দশকে অনলাইন ব্যবসা ১০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তখন প্রতিযোগিতায় যাতে টিকে থাকা যায়, তারই ভিতপুজো শুরু হচ্ছে রবিবার।









