আজ মাঘের শুক্লা ষষ্ঠী। শাস্ত্রীয় মতে বসন্তের সূচনা।
গ্রামবাংলা ও মফস্বলে এই দিনটি পরিচিত শিলনোড়া ষষ্ঠী বা গোটা সেদ্ধ খাওয়ার দিন নামে।
আরও পড়ুনঃ দারুণ খবর; প্রায় ১৫ পর আবার ফিরতে চলেছে কলকাতা মেট্রোয়! কিন্তু কি ফিরতে চলেছে?
এককালে এক বামুন–বামুন বৌয়ের সাত ছেলে–বৌমা ছিল, কিন্তু কারও সন্তান ছিল না। চিন্তিত শাশুড়ির কাছে মা ষষ্ঠী বুড়ির বেশে এসে বৌমাদের শিলনোড়া ষষ্ঠী পালনের নির্দেশ দেন। ব্রত পালনের পর বৌমাদের কোলে সন্তান আসে।
কিন্তু এক জমাট মাঘের শীতে শাশুড়ির জেদে সেই তিথিতেই স্নানের জন্য গরম জল ও গরম ভাত রান্না হয়—যেদিন মা ষষ্ঠীর নির্দেশে শিলনোড়া ও উনুনের বিশ্রাম থাকার কথা। পরদিন ভোরে উঠে শাশুড়ি দেখেন, সব বৌমা আর একটি বেড়াল মৃত।
ভুল বুঝতে পারেন তিনি। তখন মা ষষ্ঠীর শরণ নিলে, তাঁর নির্দেশে পুজোর শিল থেকে দই–হলুদের ফোঁটা নিয়ে প্রথমে বেড়ালের, পরে বৌমাদের কপালে ছোঁয়াতেই অলৌকিকভাবে সবাই বেঁচে ওঠে। সেই থেকেই প্রচার হয় মা ষষ্ঠীর মাহাত্ম্য।
আরও পড়ুনঃ ২৭ জানুয়ারি BRICS-র কারেন্সি চালু, হঠাৎ প্রত্যাহার শুল্ক! মুখ থুবড়ে পড়বে ডলার?
আজকের দিন গরম ভাত খাওয়া নিষেধ, শিলনোড়ায় কাজ নিষেধ। পুজোয় শিলনোড়া হলুদ কাপড়ে জড়িয়ে, সিঁদুর ফোঁটা দিয়ে পুজো করা হয়। সন্তানের হাতে হলুদ সুতো তাগা করে পরিয়ে দেন মায়েরা। খাওয়া হয় গতকাল রেঁধে রাখা গোটা সেদ্ধ—গোটা আলু, বেগুন, কলাই, কড়াইশুটি ও নানা সবজি একসঙ্গে সেদ্ধ করে।
ঋতু পরিবর্তনে শরীরকে শক্ত রাখার বিশ্বাস থেকেই এই প্রথা। আজ শিলনোড়া হয়তো বিশ্রামে, কিন্তু এই লোকাচার আর মায়েদের আশীর্বাদ যেন কখনও অবলুপ্ত না হয়—এই প্রার্থনা।









