দশদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তাতে তিনি মোদীকে বলেছিলেন, ‘উই অল লাভ ইউ’! কিন্তু, সেই শুভক্ষণ আর টিকল না। ভারতের তীব্র সমালোচনার সুর ট্রাম্পের পোস্টে। ভারতকে নরককুণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। ট্রাম্পের এই পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ মহুয়া মৈত্রের।
আরও পড়ুনঃ উত্তেজনা সীমান্ত শহর হলদিবাড়িতে; গাড়িতে দ্বিতীয় ইভিএম!
ভারত–চিন ‘নরককুণ্ড‘
ভারত ও চিন হল ‘নরককুণ্ড’। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্টে উত্তাল বিশ্ব। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ রেডিয়ো সঞ্চালক মাইকেল স্যাভেজের একটি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং বর্ণবাদী মন্তব্য শেয়ার করেছেন। যেখানে ভারত ও চিনকে ‘নরককুণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মাত্র দশ দিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথাবার্তার সময়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা সবাই আপনাকে ভালোবাসি”! এদিকে তার মাত্র কয়েকদিন পরেই এই নতুন পোস্টটি তাঁর অবস্থানের বৈপরীত্য প্রকাশ করছে।
বিতর্কিত ট্রাম্প–স্যাভেজ
ট্রাম্প স্যাভেজের একটি চিঠি পোস্ট করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, এখানে একটি শিশু জন্ম নিলেই সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক হয়ে যায়, এবং তারপর তারা চিন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনো ‘নরককুণ্ড’ থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে চলে আসে!
ভারত ও চিনের অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ (Gangsters with laptops) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, তারা আমেরিকার পতাকাকে অপমান করেছে এবং মাফিয়াদের চেয়েও দেশের বেশি ক্ষতি করেছে। তারা আমাদের অন্ধ করে লুটেছে, আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করেছে এবং তৃতীয় বিশ্বের জয়জয়কার নিশ্চিত করেছে!
মাইকেল স্যাভেজ
মাইকেল স্যাভেজ জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়মের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, ক্যালিফোর্নিয়ার হাই-টেক কোম্পানিগুলিতে শ্বেতাঙ্গদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ এখন শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে। কারণ পুরো ব্যবস্থা ভারত ও চিন থেকে আসা মানুষের দখলে। তাঁর মতে, সংবিধান যখন লেখা হয়েছিল তখন বিমান চলাচল বা ইন্টারনেটের কথা ভাবা হয়নি। তাই ন’মাসের গর্ভবতী মহিলারা বিমানে করে এসে এখানে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে সুযোগ নিচ্ছেন, তা বন্ধ করা উচিত।
আরও পড়ুনঃ একাধিক পাক সমর্থিত জঙ্গিকে নিকেশ করল IRGC
ট্রাম্পের অবস্থান
ট্রাম্প এই মন্তব্যগুলি শেয়ার করার মাধ্যমে তাঁর নিজের ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ (জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব) বিরোধী লড়াইকেই আসলে সমর্থন করছেন– এটাই বার্তা। বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলার শুনানি চলছে, যেখানে অস্থায়ী ভিসাধারী বা অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, আদালত যদি তার আদেশের বিরুদ্ধে রায় দেয়, তবে তা আমেরিকার বিপুল অর্থহানি ঘটাবে এবং সবচেয়ে বড় কথা। এটি আমেরিকার মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।
মহুয়া মৈত্র
ট্রাম্পের এই কাজের তীব্র প্রতিবাদ করেন মহুয়া মৈত্র। ট্রাম্পের পোস্টের বিরোধিতা করে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছেন মহুয়া মৈত্র। তাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “নমস্কার @narendramodi জি, আপনার ‘বন্ধু’ ট্রাম্প তো ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ আর সমস্ত ভারতীয়দের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ বলে গালি দিলেন। আপনি কি এর প্রতিবাদ করবেন? না কি, আপনার চিরাচরিত স্টাইলে ‘খি খি’ করে হাসতে হাসতে বাংলার পরবর্তী নির্বাচনী জনসভায় চলে যাবেন?”



