Friday, 12 June, 2026
12 June
Homeদক্ষিণবঙ্গAlipore Fire: দুর্ঘটনা নাকি ‘প্ল্যানড গেম’? স্ক্যানারে রহস্যময় আগুন

Alipore Fire: দুর্ঘটনা নাকি ‘প্ল্যানড গেম’? স্ক্যানারে রহস্যময় আগুন

সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আগুনে প্রায় ৪,০০০ ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্র বা ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আলিপুরের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রায় ৪,০০০ ইভিএম আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তৃতীয় থেকে দশম তলা পর্যন্ত আগুনের বিস্তার, নাশকতার সম্ভাবনা, ফরেন্সিক তদন্ত এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত অনুসন্ধানে পরিণত হয়েছে।

কলকাতার আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনিক ভবনে ঘটে যাওয়া এক অগ্নিকাণ্ড ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আগুনে প্রায় ৪,০০০ ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্র বা ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটি বহু প্রশাসনিক দপ্তরের কাজের কেন্দ্র হওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত গুরুত্ব পায়। আগুন নেভাতে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চালায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ইভিএমগুলির একটি বড় অংশ ভবনের নির্দিষ্ট সংরক্ষণ কক্ষে রাখা ছিল। এগুলি দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় যন্ত্রগুলির বড় অংশ পুড়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ঠিক কতগুলি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে এবং কতগুলি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নির্ধারণের কাজও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘ফুটপাথ জবরদখল করা অধিকার কারো নেই’ কড়াবার্তা শুভেন্দুর

ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি সাধারণ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি নাশকতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে একই সময়ে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে নাশকতা হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই সম্ভাবনা ও প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রেখেই তদন্ত এগোচ্ছে।

তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হল আগুনের বিস্তারের ধরণ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগুনের উৎস ভবনের নিচের অংশে, বিশেষ করে তৃতীয় তলার আশপাশে ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীদের সামনে প্রশ্ন উঠেছে, যদি আগুন নিচের তলা থেকে শুরু হয়ে থাকে, তাহলে তা কীভাবে উপরের তলাগুলিতে এত দ্রুত পৌঁছাল। বিশেষভাবে তৃতীয় তলা থেকে দশম তলা পর্যন্ত আগুন বা ধোঁয়ার বিস্তার নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। ভবনের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, তারের পথ, সিঁড়িঘর এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ কালীঘাটের দরজার এপারে CID, ওপাশে অভিষেকের উকিলরা! রক্ষাকবচের ‘ফাঁক’ দিয়েই কি ‘ভাইপো’-র গ্রেফতারি?

ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদেরও তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। আগুনের উৎস নির্ধারণের জন্য পোড়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, তার, দেয়ালের অংশ এবং অন্যান্য উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি, দাহ্য উপকরণের উপস্থিতি কিংবা অন্য কোনও কারণ এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ছিল কি না, তা নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আগুনের তাপমাত্রা, বিস্তারের গতি এবং ক্ষতির ধরনও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ইভিএম সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ হাজারের কাছাকাছি নয়, বরং প্রায় ৪,০০০ যন্ত্র একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। ভবনের কোন অংশে কতগুলি যন্ত্র রাখা ছিল, সেগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল এবং অগ্নি প্রতিরোধের জন্য কী ব্যবস্থা কার্যকর ছিল, সেসব তথ্যও তদন্তকারীরা সংগ্রহ করছেন।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে বর্তমানে তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমত, আগুনের প্রকৃত উৎস কোথায় ছিল। দ্বিতীয়ত, কীভাবে আগুন বা ধোঁয়া একাধিক তলায় ছড়িয়ে পড়ল। তৃতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত ইভিএমের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের অবস্থার সরকারি মূল্যায়নে কী উঠে আসে। সেই কারণেই আলিপুরের এই অগ্নিকাণ্ড এখন শুধু একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনা নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে বহুমাত্রিক অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন