সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভের গভীর অরণ্যে, দোবাঁকি ক্যাম্পের কাছে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য ধরা পড়েছে—রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিক বোতল দেখে। এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এবং তা বঙ্গ বার্তার হাতে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন ঘটনা! বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হল কুণাল ঘোষকে
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও বাস্তুতন্ত্রের সংকট
ভারতে ও বাংলায় গর্বের প্রতীক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বর্তমানে সুন্দরবনে প্রায় ১০৫ থেকে ১১০। তবে তাদের বাসস্থান চরম সঙ্কটে। এর আগে সুন্দরবনে মৃত ডলফিন, কচ্ছপ ও কুমিরের পেটে মাইক্রো ও ম্যাক্রো প্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছে। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, যদি বাঘের শরীরে প্লাস্টিক প্রবেশ করে, তাহলে তা তাদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
প্লাস্টিকের উৎস ও পরিবেশগত প্রভাব
গোসাবার বিডিও অফিসের কাছাকাছি, মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে বিদ্যাধরী নদীতে লক্ষ লক্ষ প্লাস্টিক ও বর্জ্য ভাসছে। জোয়ার-ভাঁটাসহ নদীর স্রোতে এই প্লাস্টিক সুন্দরবনের গভীরতম এলাকাগুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে, যা পুরো ইকোসিস্টেমের জন্য হুমকি।
প্লাস্টিক শুধু বন্যপ্রাণী নয়, নদীর মাছের পেটেও ঢুকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এছাড়াও, প্লাস্টিক ম্যানগ্রোভ গাছপালার শ্বাসমূলে আটকে ছোট ছোট ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের ধ্বংস ঘটাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বিক্ষোভ বিদেশেও; সকাল থেকে ভিড় বাড়ছে যন্তর মন্তরে
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, গত দশ বছর ধরে নদীতে প্লাস্টিকের সমস্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তৃণমূল সরকারের আমলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অপরদিকে, বোট মালিকেরা জানান, বোট থেকে প্লাস্টিক ফেললে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়, যা পর্যটকদের জন্য ৫০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তারা প্রশ্ন তুলছেন, প্লাস্টিক ফেলার জন্য কোথাও উপযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো নেই, বিশেষ করে ফরেস্ট সংলগ্ন গ্রামগুলোতে।
পরিবেশবিদদের পরামর্শ
পরিবেশবিদ সন্দীপ মৃধা বলেন, “সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণের কারণে। নতুন সরকারের প্রতি আবেদন, প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং পুনর্ব্যবহারের ওপর নজর দিতে হবে।”
এই ঘটনাটি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় সংকেত, যেখানে মানবসৃষ্ট দূষণ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।


