পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, যখন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে বারবার হাউসের ভিতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য সতর্ক করা হলেও তিনি তা না মেনে বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের বক্তব্যে বাধা দেন। এর ফলে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর নির্দেশে মার্শাল ডেকে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ উচ্ছেদ নয়, ঢেলে সাজানো হবে! সাতসকালে বইপাড়ায় অগ্নিমিত্রা
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে উঠতেই কুণাল ঘোষ নিজের আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁর মাইকের সামনে এসে দাঁড়ান এবং বক্তব্য আটকে দেন। কুণালের অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের আলোচনায় তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এই কারণে তিনি প্রতিবাদ করছিলেন।

বিধানসভায় উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে, বিজেপি বিধায়করাও এসে কুণালকে আসনে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। স্পিকারও বারবার তাঁকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও কাজ হয়নি। অবশেষে স্পিকার নির্দেশে মার্শালরা কুণাল ঘোষকে জোরপূর্বক বের করে দেয়।
আরও পড়ুনঃ বড় বদল ডিলিমিটেশনে; লুপ্ত হচ্ছে মীনাদেবী, বিজয় ও সন্তোষ পাঠকের পুরনো ওয়ার্ড
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বিধানসভায় কেউ এই ধরনের অসভ্যতা দেখায়নি। আখরুজ্জামানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে যাওয়া কুণাল ঘোষের আচরণ কাম্য নয়।” শুভেন্দু আরও উল্লেখ করেন, আখরুজ্জামান একজন সম্মানিত নেতা ও বিধায়ক, যার পিতাও মুর্শিদাবাদের একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।
এই ঘটনা বিধানসভায় বিরোধী ও সরকারী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনার নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে বিধানসভায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নও উঠেছে।


