Wednesday, 22 July, 2026
22 July
HomeকলকাতাKolkata: বড় বদল ডিলিমিটেশনে; লুপ্ত হচ্ছে মীনাদেবী, বিজয় ও সন্তোষ পাঠকের পুরনো...

Kolkata: বড় বদল ডিলিমিটেশনে; লুপ্ত হচ্ছে মীনাদেবী, বিজয় ও সন্তোষ পাঠকের পুরনো ওয়ার্ড

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হোম ওয়ার্ড’ হিসেবে পরিচিত এই ওয়ার্ডেও কোনও পরিবর্তনের প্রস্তাব নেই।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস: ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০০, ভোটার ও প্রশাসনিক ভারসাম্যের লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ এখন তীব্র গতি পাচ্ছে। রাজ্য সরকার পুরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে ২০০ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো বড় বড় ওয়ার্ডগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ভোটার সংখ্যা ভারসাম্যপূর্ণ করা এবং ভোটার কম থাকা কিছু ওয়ার্ডকে একত্রিত করে প্রশাসনিক কাজকে আরও ফলপ্রসূ ও সহজ করা।

আরও পড়ুনঃ বিক্ষোভ বিদেশেও; সকাল থেকে ভিড় বাড়ছে যন্তর মন্তরে

বড় ওয়ার্ড ভাগ করার পরিকল্পনা

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় ওয়ার্ডগুলোকে একাধিক ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার সংখ্যা বেশি থাকা ওয়ার্ডগুলোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা সমান হয় এবং প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি পায়।

  • তপসিয়াতিলজলার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড: কলকাতার সবচেয়ে বড় ওয়ার্ডগুলোর একটি, যেখানে ৮৪ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ওয়ার্ডকে পাঁচটি পৃথক ওয়ার্ডে ভাগ করা হবে।
  • এন্টালি বিধানসভার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড: যেখানে প্রায় ৬৫ হাজার ভোটার রয়েছে, সেটিও চারটি ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ৮২ নম্বর ওয়ার্ড: প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের এই ওয়ার্ডকে দু’ভাগে ভাগ করা হবে।
  • ১১৮ নম্বর ওয়ার্ড: প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের এই ওয়ার্ডও দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে।
  • ৭৭ নম্বর ভবানীপুর ওয়ার্ড: যেখানে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটার রয়েছেন, সেটিও দু’ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
  • ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড: পার্কস্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণি নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ডের পরিধি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।
  • ৯৬ ৯৭ নম্বর ওয়ার্ড: যাদবপুরের এই দুটি ওয়ার্ডও দু’ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  উচ্ছেদ নয়, ঢেলে সাজানো হবে! সাতসকালে বইপাড়ায় অগ্নিমিত্রা

কম ভোটারযুক্ত ওয়ার্ড একত্রিত করার উদ্যোগ

উত্তর কলকাতার বেশ কিছু ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা কম হওয়ায় সেগুলোকে একত্রিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক সুবিধা বাড়বে এবং ভোটারদের জন্যও সুবিধাজনক হবে।

  • ২২ ২৩ নম্বর ওয়ার্ড: বিজেপির প্রবীণ নেত্রী ও প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মীনাদেবী পুরোহিতের ও বিজয় ওঝার এই দুই ওয়ার্ডকে একত্রিত করে একটি নতুন ওয়ার্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার।
  • ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড: প্রাক্তন কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠকের এই ওয়ার্ডেও ভোটার সংখ্যা কম হওয়ায় অন্য একটি ওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

কিছু ওয়ার্ড অপরিবর্তিত থাকবে

সব ওয়ার্ডেই পরিবর্তন আসবে না।

  • ৮৮ নম্বর ওয়ার্ড: দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর ও বর্তমানে সাংসদ মালা রায়ের এই ওয়ার্ড অপরিবর্তিত থাকবে।
  • ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হোম ওয়ার্ড’ হিসেবে পরিচিত এই ওয়ার্ডেও কোনও পরিবর্তনের প্রস্তাব নেই।

প্রশাসনিক সুবিধা ও ভোটার ভারসাম্য

পুরসভার এক আধিকারিকের মতে, “উত্তর কলকাতার অনেক ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা খুব কম, আবার দক্ষিণ কলকাতার কিছু ওয়ার্ডে ভোটারের চাপ অনেক বেশি। তাই ওয়ার্ডগুলোর পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ভোটার সংখ্যা ও আয়তনে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এক পুরকর্তা আরও বলেন, “ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সুযোগে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডের সীমানাও নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ ও কার্যকর হবে।”

প্রস্তাব অনুমোদনের ধাপ

বর্তমানে এই প্রাথমিক প্রস্তাব পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে, কলকাতা পুরসভার বহু দশকের পুরনো ওয়ার্ড বিন্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এই পরিবর্তন শহরের ভোট প্রশাসন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পুনর্বিন্যাস কলকাতার ভোট ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও আধুনিক করে তুলবে, যাতে ভোটারদের জন্য পরিষেবা আরও উন্নত হয় এবং প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি পায়।

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন