নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসত্য তথ্য, ভুয়ো খবর এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারের মোকাবিলায় এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যজুড়ে গুজব রটানো বন্ধ করতে এবং দ্রুত সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে একটি বিশেষ ২৪ ঘণ্টার ‘ওয়ার রুম’ গঠন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের জারি করা এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো ভুয়ো খবর এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সরকারি কাজ পরিচালন এবং রাজ্যের ভাবমূর্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই এই ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা বা ‘ওয়ার রুম’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মামলা প্রত্যাহারের আর্জি CJP-র, নিশানায় সম্রাট ও শুভেন্দু
কী ভাবে কাজ করবে এই ওয়ার রুম?
-
ক্রমাগত নজরদারি: সংবাদপত্র, বৈদ্যুতিন মাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ফেসবুক, এক্স (টুইটার)-এর মতো সমস্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্টের ওপর নিয়মিত নজর রাখবে এই কেন্দ্র।
-
সত্যতা যাচাই ও তথ্য প্রকাশ: সংগৃহীত কনটেন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়ো তথ্য দ্রুত চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সঠিক ও সত্য তথ্য প্রস্তুত করা হবে এবং সরকারি মাধ্যমে তা দ্রুত সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হবে।
-
সমন্বয় ও রিপোর্ট তৈরি: এই ওয়ার রুমটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং স্বীকৃত ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলির সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে কাজ করবে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত রিপোর্ট রাজ্য সরকারের শীর্ষ মহলে জমা দেবে।
আরও পড়ুনঃ বালি ব্রিজে জরুরি মেরামতি; ৪৫ দিনের জন্য বদলাচ্ছে ৩০টি রুটের বাস চলাচল
নেতৃত্বে কারা থাকছেন?
এই উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার রুম’-এর নেতৃত্বে থাকবেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব। এ ছাড়া প্রশাসনিক সমন্বয় সুদৃঢ় করতে এতে সদস্য হিসেবে থাকছেন স্বরাষ্ট্র, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স, বিপর্যয় মোকাবিলা, স্বাস্থ্য দফতর এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা।
প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, “যাতে দ্রুত যাচাই করা সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদের কারণে সমাজে কোনও ধরনের আতঙ্ক তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে। শুধু নজরদারি চালানো নয়, গুজবের বিপরীতে সরকারি মাধ্যমে দ্রুত সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”


