আজকের ঘটনায় আমার সবচেয়ে বড় উপলব্ধি, একজন দক্ষ প্রশাসক ঠিক কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
আমরা সবাই জানি বর্তমানে দিল্লির যন্তরমন্তরের সামনে, প্রতিবাদ আর আন্দোলনের নামে যে দেশ বিরোধী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ ছিল না।
বরং সেই অস্থিরতাকে আরও বড় সংঘর্ষে পরিণত করে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এর মুখ্য উদ্যেশ্য।
কোটি কোটি টাকার বিদেশি ফান্ড, রাশি রাশি খাবার দাবার… কোথায় পেলো আন্দোলনকারীরা ??
সব সীমা ছড়িয়ে গেছে তারা। সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম, পুলিশ কেউ ছাড় পায়নি ওদের ওই জঙ্গি আন্দোলনের হাত থেকে।
বিষয়টা তো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়াতে আটকে ছিল না, বরং সেটা বাদ দিয়ে বাকি সব রাজনৈতিক এজেন্ডা সামনে এসেছে একের পর এক। দেশকে টুকরো করার পরিকল্পনাকারী ব্যক্তিগণ উল্লাসে মেতেছিলেন এই ভেবে যে মোদী এবার ভয়ে দেশ ছেড়েই পালাবেন। ঠিক যেমন অপপ্রচার করলো দুদিন আগে, মোদী নাকি ওদের দেখে ভয় পেয়ে পিছন দিক থেকে পালিয়ে গেছেন।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানি যোগ দিল্লির আন্দোলনে; বিরাট পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুলিশ
সে যাইহোক,পরিস্থিতি কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দিকে বেশি এগোতে পারেনি। কেনো জানেন ?
এর পেছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমার পর্যবেক্ষণে, তিনি তড়িঘড়ি আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেননি। বরং ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতিকে পর্যবেক্ষণ করেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন এবং তারপর সঠিক সময়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মুখ থেকে মুখোশ খসে পড়া অবধি তিনি অপেক্ষা করেছেন ধীরস্থির ভাবেই।
সোনম ওয়াংচুককে নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নিয়েছেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
এই সবকিছুই একটি পরিকল্পিত কৌশলের অংশ বলেই আমার মনে হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি না চালিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।
তারা নিজেরা কি পরিমাণে মার খেয়েছে তার প্রমাণ আপনাদের কাছেও আছে জানি।
কিন্তু কৌশল ছিল, মার খেলেও কাউকে মারা হবে না, আর যদি তা সত্যিই পরিকল্পিতভাবে করা হয়ে থাকে, তাহলে এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
কারণ একটি গুলিই কখনও কখনও পরিস্থিতিকে ভয়াবহ দাঙ্গায় পরিণত করতে পারে।
সকলে খুব ভালো করেই জানি, পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করার জন্য কোন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। সেই আশঙ্কা সত্য হোক বা না হোক, প্রশাসনের সংযম অন্তত সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ নিতে দেয়নি।
ইতিহাস শেষ পর্যন্ত বিচার করবে কে ঠিক, কে ভুল। কিন্তু যদি একটি সম্ভাব্য সংঘর্ষ রক্তপাত ছাড়াই থামানো যায়, তবে তা অবশ্যই একটি বড় প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আজ ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তর খালি করে দেওয়া হয়েছে।
FCRA (Amendment) Bill পাস হবে।
যারা ককরোচদের টাকা সাহায্য করছিল, তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে UAPA-র আওতায় আইনের মুখোমুখি করা হবে।
অমিত শাহ Anti-CAA আন্দোলনকে ব্যবহার করেছিলেন পরে উগ্রপন্থী শক্তিগুলোকে নির্মূল করার জন্য।
আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে অশান্তি ‘ককরোচে’র? রাজ্যগুলিকে বিশেষ নির্দেশের পথে কেন্দ্র
অমিত শাহ তথাকথিত কৃষক আন্দোলনকে ব্যবহার করেছিলেন পরে খালিস্তানি শক্তিগুলোকে নির্মূল করার জন্য।
অমিত শাহ আজকের ঘটনাকেও ব্যবহার করবেন এবার আরবান নকশালদের নির্মূল করার জন্য।
শুধু সেই একজন মানুষকে মনে রাখুন, যিনি আজ ভারতকে দাউদাউ করে জ্বলে মরার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।
তাঁর নাম অমিত অনিলচন্দ্র শাহ। আধুনিক ভারতের চানক্য হিসেবে দেখা হয় তাঁকে।


