আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে তছনছ হয়ে গেল মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সার্ভে (USGS)-র তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পানামার দক্ষিণাঞ্চল। এর ঠিক পরপরই ৬.৬ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই জোড়া প্রলয়ঙ্করী কম্পনের জেরে পানামাসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দশভুজার অনন্য বিস্ময়! গতবার প্রতিমার ছিল ১১টি হাত, এবার ৯?
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও ক্ষয়ক্ষতি
-
কেন্দ্র ও গভীরতা: ইউএসজিএস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম প্রধান ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল পানামার পিতালোজা আরিবা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১২.৬ কিলোমিটার গভীরে।
-
বাড়িঘর ধস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট: আকস্মিক এই বিপর্যয়ে পানামার বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বাড়িঘর, হোটেল ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাজধানী পানামা সিটিসহ বিভিন্ন শহরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
-
আফটার শকের আতঙ্ক: মূল ভূকম্পনের পর দফায় দফায় একাধিক আফটার শক অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাস বজায় রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে যেন যুদ্ধ লেগেছে! আটক পিনারাই বিজয়ন, ধ্রুব রাঠী, বৃন্দা কারাত
সুনামি সতর্কতা ও উদ্ধারকাজ
ভূমিকম্পের পরেই পানামার পাশাপাশি ইকুয়েডর, পেরু, নিকারাগুয়া, গুয়াতেমালা ও কলম্বিয়া সহ একাধিক দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকায় ৩ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচুতে জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।
বিপদ এড়াতে উপকূলের নিচু এলাকাগুলি ফাঁকা করার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নেমেছে সে দেশের পুলিশ, দমকল এবং জরুরি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির কোনো নিশ্চিত খবর না মিললেও, এই শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।


