শীতের শেষ লগ্নে এসে আবারও নড়েচড়ে বসছে সবজির বাজার। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে শীতকালীন সবজির প্রাচুর্যে বাজার ছিল তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক, সেখানে এখন ধীরে ধীরে দাম বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট। ক্রেতা ও বিক্রেতা দু’পক্ষই বলছেন, শীতের মরসুম শেষের দিকে এগোতেই সরবরাহ কমছে, আর তার প্রভাব পড়ছে সরাসরি দামে।
আরও পড়ুনঃ বাতাসে বসন্তের ছোঁয়া, শীত কি এবার বিদায় নিচ্ছে, নাকি আরও দাপট দেখাবে? আজ কেমন থাকবে বঙ্গের আবহাওয়া
বর্তমানে বাজারে বেগুন, টমেটো ও করলার মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের সবজিগুলোর দাম বেশ চড়া। বেগুন ও টমেটো কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে করলার দাম আরও বেশি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠছে। গাজর ও শসার দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও তা এখনও মধ্যবিত্তের বাজেটের মধ্যে পুরোপুরি স্বস্তি দিচ্ছে না।
তবে সবজির বাজারে পুরোপুরি খারাপ খবরও নেই। পেঁয়াজ ও আলুর দামে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে এলাকাভেদে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। নতুন আলু পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে, যা গত কয়েক মাসের তুলনায় অনেকটাই সহনীয়। এই দুই অত্যাবশ্যক সবজির দামে স্থিতাবস্থা থাকায় রান্নাঘরের চাপ কিছুটা হলেও কমেছে বলে মনে করছেন গৃহিণীরা।
শীতকালীন সবজির ক্ষেত্রে অবশ্য ছবিটা একটু আলাদা। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমের মতো সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করায় দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী। অনেক বাজারে বড় আকারের ফুলকপির দাম ৪০-৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যদিও এখনও কিছু জায়গায় মাঝারি সাইজের ফুলকপি ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে, তবে তা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। বাঁধাকপি ও শিমের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে।
আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোট নয়! মত জাতীয় পার্টির জিএম কাদেরের
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই থেকে তিন সপ্তাহে সবজির দামে হঠাৎ করেই ১০ থেকে ২০ টাকা কেজি পর্যন্ত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। শীতের ভরা মরসুমে যেখানে সবজি তুলনামূলক সস্তা ছিল, সেখানে এখন মরসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে দাম আবার চড়া হতে শুরু করেছে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং মাঠ থেকে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়াও এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতের শেষে সবজির বাজার এখন এক ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু সবজিতে স্বস্তি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আবহাওয়া ও জোগানের উপর নির্ভর করেই ঠিক হবে এই দাম আরও বাড়বে, নাকি আবার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।









