ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনীতির শীর্ষ তিন নেতা একসঙ্গে বসলেন। সোমবার সংসদ ভবনে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহানের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন। এই বৈঠকের মূল বিষয় পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতি। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ইরানের প্রতিশোধ, তেলের পরিকাঠামোতে আক্রমণ সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আগুন এখন বিশ্বকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই; মনে করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ
ভারতের স্বার্থ, নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীতে চাঞ্চল্য। এএনআই-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংসদে এই বৈঠক হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনা গোপন রাখা হয়েছে, কিন্তু সূত্র বলছে ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন সংঘাতের প্রভাব ভারতের উপর কীভাবে পড়ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়েছে।
ভারতে লক্ষ লক্ষ প্রবাসী রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান, ইরাক, সৌদি, কুয়েত, বাহরাইন সব জায়গায় ভারতীয় শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার, নাবিকরা কাজ করেন। সাম্প্রতিক হামলায় তেল শোধনাগার, ট্যাঙ্কার, নৌপথে আক্রমণের ফলে অনেকে আটকে পড়েছেন। দু’জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবরও এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় দূতাবাসগুলোকে সতর্ক করা, নাগরিকদের সুরক্ষা ও সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ সাহস থাকা ভালো বেশি দুঃসাহসিকতা দেখাবেন না, হুঁশিয়ারি মমতার
জয়শঙ্কর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, “ভারত পুরো পরিস্থিতি নজরে রাখছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে এই সংঘাতের উপর নজর রাখছেন। আমরা সব পক্ষকে সংযম ও কথোপকথনের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ডায়ালগ এবং ডিপ্লোম্যাসি এটাই সবার জন্য সামনে এগোনোর পথ।” এই বার্তা ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে।
ভারত কোনো পক্ষকে সমর্থন করছে না শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়।অজিত দোভাল, যিনি ভারতের ‘স্পাই মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত, এই বৈঠকে নিরাপত্তা দিকটা দেখেছেন। ইরানের প্রক্সি গ্রুপ, হুথি, হিজবুল্লাহ এদের হামলা কীভাবে ভারতের সমুদ্রপথ ও বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান সামরিক দিক থেকে পরামর্শ দিয়েছেন। ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযান বা নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে কৌশল ঠিক করা হয়েছে।









